ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য বক্তব্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনকে অযোগ্য ও অবৈধ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই সরকারের অধীনে দেশে কখনোই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে এই নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচনের তিন সপ্তাহেরও কম সময় আগে দেওয়া এই বক্তব্যে হাসিনা জনগণকে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
শুক্রবার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ শীর্ষক অনুষ্ঠানে পূর্ব রেকর্ড করা অডিও বার্তায় তিনি বক্তব্য দেন। এতে তিনি দেশে সহিংসতা, অরাজকতা এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে বলেন, বর্তমান প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংবিধান রক্ষা করতে হবে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকার অপসারণ করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, দেশে প্রতিদিন সহিংসতা চলছে, আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে এবং নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও যৌন সহিংসতা বাড়ছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা দাবি করেন, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি জাতিসংঘকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন ও নিরপেক্ষ তদন্ত চালানোর আহ্বান জানান। তার মতে, প্রতিশোধ নয়, বরং সত্য ও পুনর্মিলনের পথেই দেশের স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।
ইউনূস সরকারের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আগস্ট ২০২৪ সালে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তার সরকার উৎখাত করা হয়েছে। এরপর থেকেই বাংলাদেশ সন্ত্রাস ও ভয়ভীতির যুগে প্রবেশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, এখন গণতন্ত্র নির্বাসনে, মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত এবং দেশে সহিংসতা ও নির্যাতন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে শেখ হাসিনা আসন্ন নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী শক্ত অবস্থানে থাকায় আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে দলের অনেক শীর্ষ নেতা ভারত ও ইউরোপে অবস্থান করছেন। তবুও মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের সমর্থন পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
















