দক্ষিণ কোরিয়ার ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান কুপাংয়ের বড় দুই মার্কিন বিনিয়োগকারী দেশটির তথ্যফাঁস কেলেঙ্কারি মোকাবিলায় সিউলের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে তদন্তের আবেদন করেছে। একই সঙ্গে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার গ্রিনওকস ও অল্টিমিটার নামের দুই প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান জানায়, দক্ষিণ কোরিয়া সরকার কুপাংয়ের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে—এই অভিযোগে তারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে আবেদন করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র–দক্ষিণ কোরিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে কুপাং স্বীকার করে যে, দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের প্রায় তিন কোটি ত্রিশ লাখ গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছে। এর পর দেশটির সংসদ সদস্য ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শুরু হয় ব্যাপক তদন্ত, পাশাপাশি বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকদের পক্ষ থেকে একাধিক মামলা।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, তথ্যফাঁসের ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়া সরকার যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। শ্রম, আর্থিক ও শুল্ক বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে কুপাংয়ের ব্যবসা কার্যত অচল করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে তারা দাবি করেছে।
তাদের বক্তব্য, এই পরিস্থিতির ফলে বিনিয়োগকারীরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় ন্যায্য ও পূর্বানুমেয় ব্যবসা পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং আইন ও নীতির ভিত্তিতে ন্যায্যভাবে এই ইস্যু মোকাবিলা করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হবে না।
দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান কু আগেই দাবি করেছিলেন, কুপাংয়ের বিরুদ্ধে কোনো বৈষম্য করা হচ্ছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার মধ্যে এ বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। তাঁর মতে, নজিরবিহীন তথ্যফাঁস ও কোম্পানিটির অপর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়াকে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক ইস্যু থেকে আলাদা করে দেখা উচিত।
কুপাংয়ের তথ্যফাঁস প্রকাশের পর থেকে নিউইয়র্কের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় সাতাশ শতাংশ কমে গেছে।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় পাঠানো আনুষ্ঠানিক নোটিশের ফলে নব্বই দিনের একটি পরামর্শকাল শুরু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে পূর্ণাঙ্গ সালিশি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের হাতে রয়েছে পঁয়তাল্লিশ দিন সময়, তারা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করবে কি না সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। তদন্ত শুরু হলে দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্য ও সেবার ওপর শুল্কসহ পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার পথও খুলে যেতে পারে।
গ্রিনওকসের প্রতিষ্ঠাতা নিল মেহতা কুপাংয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। নথিপত্র অনুযায়ী, গ্রিনওকস ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে কুপাংয়ের প্রায় একশ চল্লিশ কোটি ডলারের বেশি শেয়ার রয়েছে। ২০২৩ সালে গ্রিনওকসের সঙ্গে যৌথভাবে পাঁচশ মিলিয়ন ডলারে বিলাসবহুল ফ্যাশন প্ল্যাটফর্ম ফারফেচ অধিগ্রহণ করেছিল কুপাং।
















