রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং এখন কেবল একটি বিষয়েই মতভেদ রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দাভোসে উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে উইটকফ বলেন, আলোচনাগুলো এখন এমন পর্যায়ে এসেছে, যেখানে শেষ একটি ইস্যু নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সেটির সমাধান সম্ভব। উভয় পক্ষ যদি চায়, তাহলে এই সমস্যারও নিষ্পত্তি করা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, সেদিনই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর উদ্দেশে রওনা হবেন। তবে সেখানে রাতযাপন না করে তাঁরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে যাবেন। সেখানে সামরিক পর্যায়ের কার্যকরী দলগুলোর মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, যুদ্ধ অবসানে উইটকফের কূটনৈতিক উদ্যোগকে মস্কো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তবে শান্তিচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত—এমন আশাবাদ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। এর আগে ক্রেমলিন জানায়, সফরের সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে উইটকফের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাভোসে পৌঁছেছেন এবং বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। জেলেনস্কির দপ্তরের মুখপাত্র জানান, বৈঠকের পর তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন।
জেলেনস্কি এর আগে বলেছিলেন, যদি যুদ্ধের সমাধান নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও যুদ্ধ–পরবর্তী পুনর্গঠনের অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের সুযোগ থাকে, তবেই তিনি দাভোসে যাবেন।
শেষ যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আটকে আছে, তা স্পষ্ট না হলেও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আগে বলা হয়েছিল, রাশিয়ার দখলে থাকা ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ, কিয়েভের নিয়ন্ত্রণাধীন কিন্তু মস্কোর দাবিকৃত এলাকা এবং দক্ষিণ ইউক্রেনে রুশ নিয়ন্ত্রণে থাকা জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্তৃত্ব—এই বিষয়গুলোই প্রধান বিরোধের জায়গা।
এর মধ্যেই ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, পুতিন ও জেলেনস্কি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন। দাভোসে দেওয়া এক বক্তব্যের পর তিনি বলেন, এখনই উভয় পক্ষ একসঙ্গে বসে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে একাধিক খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগের প্রশংসা করলেও বলেন, ইউক্রেনের এখনো সামরিক সহায়তা প্রয়োজন। তাঁর মতে, শান্তি আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা দ্রুত শেষ হবে না।
এই আলোচনার মধ্যেই রুশ হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বড় অংশ বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহহীন হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতের মধ্যে হাজারো ভবনের বাসিন্দারা গরম ছাড়া দিন কাটাচ্ছেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলে রুশ ড্রোন হামলায় একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এতে এক কিশোর নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
















