অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেরিকো গভর্নরেটের পূর্বাঞ্চলের ফিলিস্তিনি গ্রাম রাস আইন আল-আউজা কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সহিংস ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রতিরোধ করে টিকে থাকলেও সাম্প্রতিক হামলা, হুমকি ও অবরোধের মুখে এবার ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে গ্রামের অধিকাংশ পরিবার।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে সহিংসতা এতটাই বেড়েছে যে গ্রামটির প্রায় ৬৫০ বাসিন্দার মধ্যে অন্তত ৪৫০ জন ইতিমধ্যে চলে গেছেন। যাদের যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা নেই, এমন কয়েকটি পরিবার ছাড়া বাকিরাও শিগগিরই এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এটি আধুনিক সময়ে একক কোনো বেদুইন সম্প্রদায় থেকে সহিংস বসতি স্থাপনকারী হামলার কারণে সবচেয়ে বড় উচ্ছেদের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গ্রামটি ছিল জর্ডান উপত্যকার এই অংশে শেষ কয়েকটি ফিলিস্তিনি পশুপালক সম্প্রদায়ের একটি। কিন্তু এখন তাদের অধিকাংশ ভেড়া চুরি বা বিষ প্রয়োগে মারা গেছে, কিংবা চাপের মুখে বিক্রি করে দিতে হয়েছে। পানির প্রধান উৎস রাস আইন ঝরনা গত এক বছর ধরে বসতি স্থাপনকারীদের দখলে থাকায় গ্রামবাসীরা পানি থেকেও বঞ্চিত। বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় সৌর প্যানেল বসালেও সেগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাইফ ঘাওয়ানমেহ বলেন, দুই বছর ধরে রাতের পর রাত মানসিক চাপে থাকতে হচ্ছে। ঘুমালে বসতি স্থাপনকারীরা ঘর পুড়িয়ে দেবে—এই আতঙ্কে পাহারা দিতে হয়। তার ভাষায়, প্রায় সবাই চলে গেছে, পুরো গ্রামটাই ভেঙে পড়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম তীরে বসতি ও অননুমোদিত আউটপোস্টের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। এসব আউটপোস্ট আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হলেও বাস্তবে সেগুলোকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে তথাকথিত পশুপালন আউটপোস্টের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি পশুপালকদের জমি দখল, চলাচলে বাধা, গবাদিপশু চুরি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এতে বহু গ্রামীণ ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য বলছে, গত বছর পশ্চিম তীরে প্রতিদিন গড়ে পাঁচটির মতো বসতি স্থাপনকারী হামলা হয়েছে, যাতে বহু মানুষ হতাহত এবং সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সহিংসতার ফলে বহু ফিলিস্তিনি গ্রাম পুরোপুরি বা আংশিকভাবে খালি হয়ে গেছে।
রাস আইন আল-আউজার পরিবারগুলো এখন পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও জনবহুল এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছে। এতে শতাব্দীপ্রাচীন বেদুইন জীবনধারা ভেঙে পড়ছে। ঘাওয়ানমেহ বলেন, নিজের গ্রাম ছেড়ে যেতে বাধ্য হওয়া সবচেয়ে কষ্টের বিষয়। তিনি জানান, শিশুদের মধ্যে ভয় আর অনিশ্চয়তা ভর করেছে।
এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে মন্তব্য জানতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
















