দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কঠোর ব্যবস্থা; এ পর্যন্ত মোট বহিষ্কৃত ৭২ জন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোী প্রার্থী হওয়ায় আরও ৫৯ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়। এ নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত মোট ৭২ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করল দলটি।
২১ জানুয়ারি ২০২৬-এর সংবাদ অনুযায়ী, বহিষ্কৃতদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্যরা রয়েছেন। মূলত যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনে এবং দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক বহিষ্কৃত উল্লেখযোগ্য নেতাকর্মী:
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে। নিচে বিভাগভিত্তিক কয়েকজন নেতার নাম তুলে ধরা হলো:
- রংপুর বিভাগ: এ জেড এম রেজওয়ানুল হক (দিনাজপুর-৫), আ ন ম বজলুর রশিদ ও রিয়াদ আরাফান সরকার রানা।
- রাজশাহী বিভাগ: তাইফুল ইসলাম টিপু (নাটোর-১), দাউদার মাহমুদ (নাটোর-৩), কে এম আনোয়ারুল ইসলাম (পাবনা-৩) ও জাকারিয়া পিন্টু (পাবনা-৪)।
- ঢাকা বিভাগ: লুৎফর রহমান খান আজাদ (টাঙ্গাইল-৩, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা), ফরহাদ ইকবাল (টাঙ্গাইল-৫), মো. আতাউর রহমান খান আঙ্গুর (নারায়ণগঞ্জ-২) ও মো. মহিউদ্দিন (মুন্সিগঞ্জ-৩)।
- অন্যান্য বিভাগ: নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য ফজলুল আজীম (নোয়াখালী-৬) এবং কেন্দ্রীয় নেতা শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল (কিশোরগঞ্জ-৫)।
বিভাগভিত্তিক বহিষ্কারের পরিসংখ্যান:
| বিভাগ | উল্লেখযোগ্য বহিষ্কৃত নেতা ও পদবি | আসন |
| ঢাকা | লুৎফর রহমান খান আজাদ (উপদেষ্টা), ফরহাদ ইকবাল (জিএস, জেলা বিএনপি) | টাঙ্গাইল-৩, ৫ |
| রাজশাহী | তাইফুল ইসলাম টিপু (সহদপ্তর সম্পাদক, কেন্দ্রীয়), জাকারিয়া পিন্টু | নাটোর-১, পাবনা-৪ |
| সিলেট | মামুনুর রশীদ (উপদেষ্টা, জেলা বিএনপি), শেখ সুজাত মিয়া (কেন্দ্রীয় সদস্য) | সিলেট-৫, হবিগঞ্জ-১ |
| চট্টগ্রাম | ফজলুল আজীম (সাবেক এমপি), লিয়াকত আলী চেয়ারম্যান | নোয়াখালী-৬, চট্টগ্রাম-১৬ |
| খুলনা | মনিরুল ইসলাম (জিএস, জেলা বিএনপি), শহিদুল আলম (কেন্দ্রীয় সদস্য) | নড়াইল-২, সাতক্ষীরা-৩ |
বিএনপির অনড় অবস্থান:
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলের হাই কমান্ডের নির্দেশ অমান্য করে যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এমনকি নাটোর-১ আসনের ইয়াসির আরশাদ রাজনের মতো যারা সময় পার হওয়ার ১০ মিনিট পর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে চেয়েছিলেন কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁদেরও ক্ষমা করেনি দল। বিএনপি চায় একক ও ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বের মাধ্যমে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে।
















