প্রতীক বরাদ্দের দিনে উত্তপ্ত আগারগাঁও; ‘আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছি’—প্রার্থীরা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের দিনে রাজধানীর নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে এক উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রতীক গ্রহণের সময় নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, মাঠে কোনো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই এবং বড় দলগুলো ইতিমধ্যেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের উৎসবে মেতেছে। এর জবাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো কর্মীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ভার সরাসরি প্রার্থীর ওপরই বর্তাবে।
২২ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল ২৯৮টি আসনে মোট ১ হাজার ৯৭২ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ঢাকার আসনগুলোতে প্রতীক নেওয়ার সময় বড় দলগুলোর শোডাউন এবং ছোট দলগুলোর নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ ছিল আলোচনার তুঙ্গে। ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের পক্ষে প্রতীক নেওয়ার সময় ১৬ জন কর্মী আহত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দলটির প্রতিনিধিরা।
প্রার্থীদের প্রধান অভিযোগসমূহ:
- লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অভাব: বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখে বড় দল ও ছোট দলের প্রার্থীর মধ্যে বৈষম্য দেখা যাচ্ছে। বড় দলগুলো লোকবল নিয়ে প্রতীক নিতে আসলেও ইসি ছিল নির্বিকার।
- নিরাপত্তা শঙ্কা: প্রার্থীদের দাবি, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগেই বিভিন্ন স্থানে হামলা ও নাজেহাল হওয়ার ঘটনা ঘটছে। জামায়াতের অভিযোগ, পীরবাগে তাদের ১৬ জন কর্মীকে আহত করা হয়েছে।
- আচরণবিধি লঙ্ঘন: প্রার্থীদের অভিযোগ, অনেক প্রার্থী প্রতীক পাওয়ার আগেই ২১ জানুয়ারির আগে থেকে প্রচারণা শুরু করেছেন, যা স্পষ্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন।
ঢাকা-১৩ ও ১৫ আসনের প্রতীক বরাদ্দ এক নজরে:
[Image showing a crowded election hall where Returning Officer is handing over symbols like ‘Scales’ and ‘Sheaf of Paddy’ to representatives, with army and police officers standing guard]
| আসন | প্রার্থী ও দল | বরাদ্দকৃত প্রতীক |
| ঢাকা-১৫ | ডা. শফিকুর রহমান (জামায়াত) | দাঁড়িপাল্লা |
| ঢাকা-১৫ | মো. শফিকুল ইসলাম খান (বিএনপি) | ধানের শীষ |
| ঢাকা-১৩ | ববি হাজ্জাজ (বিএনপি) | ধানের শীষ |
| ঢাকা-১৩ | মো. মামুনুল হক (খেলাফত মজলিস) | রিকশা |
| ঢাকা-১৩ | ফাতেমা আক্তার মুনিয়া (ইনসানিয়াত বিপ্লব) | আপেল |
| ঢাকা-১৩ | সোহেল রানা (স্বতন্ত্র) | কলস |
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর বার্তা:
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখুন। তারা বিধি লঙ্ঘন করলে তার দায় আপনাদেরই নিতে হবে।” সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মেজর নাফিসা এবং মেজর ইয়াহইয়া জানিয়েছেন, তারা ২৪ ঘণ্টা মোতায়েন আছেন এবং কোনো ধরনের ‘মব’ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার জন্য প্রার্থীদের অনুরোধ করেছেন। অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে এডিসি জুয়েল রানা নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না এবং ঢাকা-১৩ আসনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে।
















