ঠিকাদারের দাবির রায় ৯ ফেব্রুয়ারি, দীর্ঘ বিরোধের শঙ্কা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে ঠিকাদার ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিরোধের নিষ্পত্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারের দাবির ওপর রায় হলেও এই দ্বন্দ্ব দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এর ব্যয়বহুল থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ–এর মধ্যে চলমান বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। অপরিশোধিত বিল, অতিরিক্ত ব্যয় ও ক্ষতিপূরণ দাবিকে কেন্দ্র করে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক সালিশ পর্যন্ত গড়ানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঠিকাদারের উত্থাপিত দাবির ওপর শুনানির প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে রায় দেওয়ার কথা থাকলেও, রায়ের পরও বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি নাও হতে পারে। কারণ, বড় অঙ্কের আর্থিক দায় স্বীকার করতে হলে মন্ত্রিসভাসহ উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের বাইরে কাজ, তিন গুণ কোটেশন, চুক্তি লঙ্ঘন এবং প্রায় ৪০০টি দাবিকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে। ঠিকাদার পক্ষ দাবি করছে, সফট ওপেনিংয়ের সময় চুক্তিবহির্ভূত কাজ করতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে, যার দায় সরকারকে নিতে হবে। তবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এসব দাবিকে অযৌক্তিক ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং উল্টো ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

বিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে টার্মিনাল ভবনের দুই পাশে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের বাইরে দুটি অতিরিক্ত পিয়ার স্টেশন নির্মাণ। প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের মৌখিক নির্দেশে কাজ শুরু হলেও তা মূল চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরে আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)–এর এক সমীক্ষায় দেখা যায়, এ সম্প্রসারণ কাজের কোটেশন ঠিকাদারের মূল দামের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি হওয়ায় কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ করে দেয়।
এ ছাড়া ২১ হাজার ৩৯ কোটি টাকার প্রকল্প শেষ হওয়ার পর পর্যালোচনায় দরপত্র নথির শর্ত ভঙ্গ, ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতির উৎপত্তি দেশ পরিবর্তনসহ একাধিক ভিন্নতা শনাক্ত করা হয়েছে। এসব বিষয়ও বিরোধকে আরও ঘনীভূত করেছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিরোধ বোর্ডের সিদ্ধান্ত কোনো পক্ষ গ্রহণ না করলে উভয় পক্ষই আন্তর্জাতিক সালিশে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে থার্ড টার্মিনাল নিয়ে এই অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, জাপানের মিতসুবিশি ও ফুজিতা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাংকে নিয়ে গঠিত অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের চুক্তি করে। একনেক ২০১৭ সালে মূল প্রকল্প এবং ২০১৯ সালে সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন দেয়। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থার্ড টার্মিনালের সফট ওপেনিং করা হয়।
















