৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন ও দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব; সরকারি কর্মচারীদের প্রচারণায় নেই আইনি বাধা
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস ময়দানে আয়োজিত এক বিভাগীয় ইমাম সমাবেশে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও জনগণের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র বিনির্মাণ সম্ভব হয়নি। এখন সময় এসেছে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের মাধ্যমে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের মতো ‘গণতন্ত্রবিরোধী’ আইনগুলো সংস্কার করার। ড. রীয়াজ স্পষ্ট করেন যে, সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিরুদ্ধে কথা বলার স্বাধীনতা দিতেই এই সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন গণভোট নিয়ে ধর্মীয় অপপ্রচারকে ‘বোগাস’ বলে উড়িয়ে দিয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই সমাবেশে ইমাম ও ওলামায়ে কেরামদের উদ্দেশে রাষ্ট্র সংস্কারের যৌক্তিকতা এবং আসন্ন নির্বাচনে তাঁদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা।
সংস্কার প্রস্তাবের ৪টি বৈপ্লবিক পরিবর্তন
অধ্যাপক আলী রীয়াজ তাঁর বক্তব্যে জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবের ব্যাখ্যা দেন:
- ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার: বর্তমানে এমপিদের হাত-পা বাঁধা। সংস্কার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কেবল ‘অর্থবিল’ এবং ‘আস্থা ভোট’ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে এমপিরা নিজ দলের বিপক্ষেও স্বাধীন মতামত দিতে পারবেন।
- উচ্চকক্ষ গঠন: সংসদে ১০০ আসনের একটি উচ্চকক্ষ থাকবে। কোনো দল ৫ শতাংশ ভোট পেলেও সংখ্যানুপাতিক হারে উচ্চকক্ষে তাদের ৫ জন প্রতিনিধি থাকবে। সংবিধান সংশোধনে এই উচ্চকক্ষের ৫১ জন সদস্যের সমর্থন বাধ্যতামূলক হবে।
- রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা: এতদিন প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় রাষ্ট্রপতি নিয়োগ ও সিদ্ধান্ত নিতেন। নতুন প্রস্তাবে নির্বাচন কমিশন ও বিচারপতি নিয়োগে রাষ্ট্রপতির প্রকৃত ক্ষমতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
- প্রচারণায় সরকারি কর্মচারী: ড. রীয়াজ স্পষ্ট করেছেন যে, আরপিও অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে কোনো আইনি বাধা নেই।
ধর্মীয় অপপ্রচার নিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টার হুঁশিয়ারি
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন:
১. ‘বোগাস’ অপপ্রচার: “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে না বা আল্লাহর ওপর আস্থা থাকবে না বলে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ বোগাস ও ভিত্তিহীন।”
২. মেধার মূল্যায়ন: তিনি এমন এক সমাজ গঠনের ওপর জোর দেন যেখানে সন্তানের পরিচয় নির্ধারিত হবে তার মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, রাজনৈতিক প্রভাবে নয়।
মুক্তিযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সুযোগ
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ১৯৭১ সালের পর এটিই আমাদের সামনে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সবচেয়ে বড় সুযোগ। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে নিজ দেশে পরবাসী হয়ে থাকার গ্লানি মুছতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তাঁরা সাধারণ মানুষকে ভোটকেন্দ্রে যেতে এবং সত্য তথ্য দিয়ে সচেতন করতে ভূমিকা রাখেন।
















