ঢাকা: বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রবিবার ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খালিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের দপ্তরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত বাংলাদেশ চীন মৈত্রী হাসপাতাল প্রকল্প গুরুত্ব পায়। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, তিনি তিস্তা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যাবেন এবং চলমান কারিগরি মূল্যায়ন দ্রুত শেষ করতে চীনের অঙ্গীকার পুনরায় তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি তাঁর সরকারের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে আয়োজনের জন্য শুভকামনা জানান।
দুই পক্ষই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক গতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও চীনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়। ওই বছর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বেইজিং সফর করেন, যেখানে অবকাঠামো, জ্বালানি ও ডিজিটাল উন্নয়নে দুই দশমিক এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদান সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সরকার পরিবর্তনের পর এই উদ্যোগগুলো বাংলাদেশে চীনের উপস্থিতি আরও বাড়িয়েছে। ত্রিপক্ষীয় সংলাপ, তিস্তা প্রকল্পে চীনের বাড়তি সহায়তা এবং অর্থনৈতিক সংযোগ ও ডিজিটাল অবকাঠামোয় জোর দেওয়ার মধ্য দিয়ে দুই দেশের সহযোগিতা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
















