আসন্ন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের মধ্যে চলমান অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে। ভিসা জটিলতার কারণে আইসিসির নির্ধারিত প্রতিনিধি দলের একজন ভারতীয় কর্মকর্তা সময়মতো বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সফরের জন্য আইসিসি দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল। তবে ভিসা সমস্যায় সেই দল অর্ধেকে নেমে আসে। আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ একাই ১৭ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছান। তার সঙ্গে আসার কথা ছিল আইসিসির একজন শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জোগ গুপ্তার, যিনি ভারতীয় নাগরিক। কিন্তু সময়মতো ভিসা না পাওয়ায় তাকে সফর বাতিল করতে হয়।
এই সফরকে আইসিসির শেষ চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসির মধ্যে সৃষ্ট কূটনৈতিক ও ক্রীড়া সংকট নিরসনই ছিল সফরের মূল উদ্দেশ্য।
মূল বিরোধের জায়গা হচ্ছে নিরাপত্তা। বাংলাদেশের সরকার ও বিসিবি ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ কারণে তারা আইসিসিকে অনুরোধ করেছে, গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করতে।
সহকর্মী না থাকায় সব আলোচনা ও বোঝাপড়ার দায়িত্ব এখন অ্যান্ড্রু এফগ্রেভের ওপরই পড়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নিরাপত্তায় অভিজ্ঞ এই সাবেক ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে। লক্ষ্য হচ্ছে ভারতের ভেতরে বাংলাদেশ দলের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আস্থা তৈরি করা।
ভিসা না পাওয়ার ঘটনাটিও দুই দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে পরিস্থিতি নিয়ে সংস্থাটির ভেতরে হতাশা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর সময় খুব কাছাকাছি চলে আসায় সমাধানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। আলোচনা ব্যর্থ হলে টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা। এখন সবকিছুই নির্ভর করছে আইসিসি প্রতিনিধি অ্যান্ড্রু এফগ্রেভের আলোচনার সাফল্যের ওপর।
















