উত্তেজনায় জড়ান এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত আপিল শুনানির সময় নির্বাচন কমিশন ভবনে হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাই নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল শুনানি চলাকালে প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে মানিকগঞ্জ–৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী আফরোজা খানমের মনোনয়নপত্র বৈধতার বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিকালে প্রথমে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। শুনানির একপর্যায়ে নির্বাচন কমিশন উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের কাছ থেকে দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ে ব্যাখ্যা চান।
ব্যাখ্যা গ্রহণের পর কমিশন দুপুরে আধা ঘণ্টার জন্য শুনানি মুলতবি করে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা অডিটোরিয়াম ত্যাগ করার পরপরই আপিলের পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা আইনজীবীদের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়।
এই সময় ফেনী–৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু উপস্থিত বিরোধীদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার মনোনয়নপত্রও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে বাতিলের শুনানির মুখে ছিল।
এরপর অন্য একটি আপিল শুনানির জন্য অডিটোরিয়ামে উপস্থিত কুমিল্লা–৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি আব্দুল আউয়াল মিন্টুর বক্তব্যে আপত্তি তোলেন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনজীবীরা আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে সরিয়ে নেন। এ সময় তার ছেলে তাবিথ আউয়াল হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিরতির পর শুনানি পুনরায় শুরু হলে হাসনাত আব্দুল্লাহ নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেন যে, আব্দুল আউয়াল মিন্টু তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং বলপ্রয়োগের চেষ্টা করেছেন।
একই সঙ্গে এক আইনজীবী অভিযোগ করেন, কিশোরগঞ্জের একটি আসনের বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকেরা আগের দিন শুনানি শেষে নির্বাচন ভবনের সামনে তার মক্কেলকে মারধর করেছেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ঘটনাগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না। পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে নির্বাচনি তদন্ত কমিটির কাছে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
















