ব্যালট পেপারে অনিয়ম ও বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাবের অভিযোগে ইসি ঘেরাও
ব্যালট পেপার তৈরিতে কারচুপির আশঙ্কা এবং নির্বাচন কমিশনে (ইসি) একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিবাদে ইসি সচিবালয় ঘেরাও করে সেখানে অবস্থান নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে তারা এই কর্মসূচি শুরু করেন।
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, রোববার সকালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী মিছিলে মিছিলে ইসি ভবনের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা ভবনের মূল ফটকের সামনে বসে পড়েন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। ছাত্রদল সভাপতির অভিযোগ, বর্তমান কমিশন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে এবং জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির নীল নকশা বাস্তবায়নে লিপ্ত রয়েছে।
ছাত্রদলের ঘেরাও কর্মসূচির মূল কারণসমূহ:
- ব্যালট পেপার নিয়ে শঙ্কা: পোস্টাল ব্যালট এবং সাধারণ ব্যালট পেপারের নকশায় একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রতীক ও নাম এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে।
- বিশেষ গোষ্ঠীর অবাধ বিচরণ: ছাত্রদলের দাবি, সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর নেতারা কোনো দাপ্তরিক কাজ ছাড়াই অবাধে যাতায়াত করছেন এবং কমিশনারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।
- বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনে হস্তক্ষেপ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে তারিখ পরিবর্তন ও স্থগিত করার প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
- জবাবদিহিতার দাবি: ছাত্রদল সভাপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আজ তারা কমিশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এসেছেন। জবরদস্তিমূলক সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যাহার না করা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
ঘেরাও কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং বিভিন্ন থানা ইউনিটের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
















