জেলার সব আসনেই লড়ছে দুই দল; ৩ নম্বর আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ, আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া জামায়াত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপি ও জামায়াত একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। অতীতে জোটবদ্ধ থাকলেও এবার আলাদা লড়াইয়ে নামায় ভোটের সমীকরণ পাল্টে গেছে। সাতক্ষীরা-৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে জামায়াত।
দীর্ঘ দেড় যুগ পর হতে যাওয়া একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে সাতক্ষীরার রাজনৈতিক মাঠ নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। অতীতে সংসদ নির্বাচনে জেলাটিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী জোটবদ্ধ হয়ে লড়লেও এবার তারা একে অপরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জেলার চারটি আসনেই এই দুই দলের শক্তিশালী প্রার্থীরা ভোটের মাঠে লড়ছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যাচাই-বাছাই ও আপিল শেষে বর্তমানে ২০ জন বৈধ প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে আছেন। এর মধ্যে সাতক্ষীরা-১ আসনে ৫ জন, ২ আসনে ৭ জন, ৩ আসনে ৫ জন এবং ৪ আসনে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আসনভিত্তিক লড়াইয়ের চিত্র
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া)
এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব লড়ছেন। তার বিপরীতে জামায়াত মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ-কে। হেভিওয়েট এই দুই নেতার লড়াইয়ে মূল ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে সাধারণ ভোটারদের ‘ব্যক্তি ইমেজ’।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা)
মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির ভেতরে তীব্র কোন্দল থাকলেও বর্তমানে প্রার্থীরা একজোট হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন দলের প্রার্থী মো. আবদুর রউফ। অন্যদিকে জামায়াতের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক নিজের সাংগঠনিক শক্তির ওপর ভর করে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি): বিড়ম্বনায় বিএনপি
এই আসনে বিএনপির জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজেদের দলীয় বিদ্রোহ। দলের অফিসিয়াল প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন-এর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শহিদুল আলম। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের আশঙ্কা, বিএনপির ভোট দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেলে জামায়াতের প্রার্থী মুহা. রবিউল বাসার অনায়াসেই বৈতরণী পার হয়ে যাবেন।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর)
সীমানা পুনর্বিন্যাসের কারণে এই আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটা বদলেছে। এখানে লড়াই হচ্ছে মূলত সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা জি এম নজরুল ইসলাম এবং বিএনপির নতুন মুখ মো. মনিরুজ্জামান-এর মধ্যে।
ঐতিহাসিক ভোটের সমীকরণ
পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯১ সালে জামায়াত এই জেলার ৫টি আসনের ৪টিতেই জয়ী হয়েছিল। ২০০১ সালে জামায়াত ৩টি এবং বিএনপি ১টি আসনে জয় পায়। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটের দাপটে বিএনপি-জামায়াত একটি আসনও পায়নি। এবার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় এবং নির্বাচন উন্মুক্ত হওয়ায় জামায়াত ও বিএনপি উভয়েই চারটি আসন নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর জটিলতা—এই দুই বিষয়ই সাতক্ষীরার ভোটের ফল নির্ধারণ করবে।















