২০২৫ সালে রাজধানীতে রেকর্ডসংখ্যক বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম। অপরাধীদের ‘ডাম্পিং স্টেশন’ হয়ে উঠেছে নদী ও খাল। ১৬ মাসে দেশে ৪ হাজার ৭৩২টি হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রতি মাসে গড়ে ৫৪টি অজ্ঞাতপরিচয় লাশ উদ্ধার; শনাক্তকরণে জাতীয় ডেটাবেইস না থাকাকে বড় বাধা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় বা বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ২০২৫ সালে রাজধানীতে মোট ৬৪৩টি লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন ও সৎকার করা হয়েছে। এর মধ্যে রায়েরবাজার কবরস্থানে ৪৬১ জন এবং জুরাইন কবরস্থানে ১৭৫ জনকে দাফন করা হয়। এ ছাড়া পোস্তগোলা শ্মশানে সাতজনের দাহ সম্পন্ন হয়েছে।
আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা ৭৩টি বেড়েছে। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সংঘাত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ফলে যত্রতত্র লাশ উদ্ধারের ঘটনা বাড়ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, দেশে প্রতি মাসে গড়ে আড়াই হাজার অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড হচ্ছে। নদীগুলো এখন অপরাধীদের লাশ গুম করার প্রধান স্থানে পরিণত হয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, পচে যাওয়া লাশের আঙুলের ছাপ মেলানো যায় না এবং ছিন্নমূল মানুষের এনআইডি না থাকায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ছোট-বড় সবার জন্য কেন্দ্রীয় কোনো ডিজিটাল ডেটাবেইস না থাকায় অনেক লাশের ওয়ারিশ খুঁজে পাওয়া যায় না।”
















