কুমিল্লার মুরাদনগরে একটি ছয় বছরের কন্যা শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ সেফটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখার এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার নিহা মনির মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় জনতা। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক রাসেলকে (২০) আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও নৃশংসতা
নিহত নিহা মনি মোচাগড়া গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী শরীফ মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে নিহা বাড়ির পাশে আরও কয়েক শিশুর সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে তাকে খুঁজে পাওয়া না গেলে খেলার সাথিরা জানায় যে, একই গ্রামের রবিউল মিয়ার ছেলে রাসেল তাকে ডেকে নিয়ে গেছে।
দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পাশের একটি সেফটিক ট্যাংকের ভেতর শিশুটির মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। মরদেহ উদ্ধারের সময় দেখা যায়, শিশুটির হাত ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে শক্ত করে বাঁধা ছিল।
মাদকাসক্তি ও উত্যক্ত করার অভিযোগ
নিহতের দাদী পারুল বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “রাসেল বাচ্চাদের আশেপাশে ঘুরঘুর করছিল। সে আমার নাতনীকে ভুলিয়ে নিয়ে গিয়ে এমন সর্বনাশ করল। আমরা ওর ফাঁসি চাই।” স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত রাসেল একজন চিহ্নিত মাদকাসক্ত এবং সে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের ছোট ছোট মেয়েদের উত্যক্ত করে আসছিল। মাদক ও বিকারগ্রস্ত মানসিকতা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশি পদক্ষেপ ও উত্তেজনা
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক রাসেলকে ধরে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাসেলকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জামিল খান জানান, “আমরা শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। অভিযুক্ত ঘাতক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”
















