ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে জরুরি সংস্কার কার্যক্রম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ৯৪৭টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার ও মেরামতের জন্য ৬ কোটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত দেশের ৯৪৭টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার ও মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে মোট ৬ কোটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি)।
শুক্রবার ইইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী জানান, নির্বাচনের সময় ভোটারদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সংস্কার জরুরি হয়ে উঠেছে। এজন্য দরজা–জানালা, লাইট–ফ্যান, বাথরুমের স্যানিটারি ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম মেরামত ও সংযোজনের কাজ করা হবে।
তিনি বলেন, “বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।”
ইইডি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে এ সংক্রান্ত ব্যয় মঞ্জুরির আদেশ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়–এর চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইনান্স অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থটি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের আওতায় ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামত ও পুনর্বাসন’ খাত থেকে ব্যয় করা হবে।
সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও ব্যয়ের শর্ত
ইইডি জানায়, তালিকাভুক্ত প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ পাবে। তবে এই অর্থ শুধুমাত্র ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কেনার কাজে ব্যয় করা যাবে। অন্য কোনো খাতে কিংবা পূর্ববর্তী বছরের বকেয়া পরিশোধে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।
বরাদ্দ আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি আর্থিক বিধি–বিধান ও পিপিআর–২০২৫ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যয় নির্বাহকারী কর্তৃপক্ষকে দায় নিতে হবে।
ইইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী বলেন, “বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ায় এখন দেশজুড়ে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতির কাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে। একটি নিরাপদ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই জরুরি সংস্কার কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।”
















