যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে একজন ফেডারেল কর্মকর্তা ভেনেজুয়েলার এক অভিবাসীকে গুলি করেছেন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে একটি গাড়ি থামাতে গেলে পরিস্থিতির অবনতি হয় এবং একপর্যায়ে কর্মকর্তারা গুলি চালান। এতে ওই ব্যক্তি পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পর শহরজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।
এই ঘটনা ঘটে এমন এক সময়ে, যখন এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে মিনিয়াপোলিসেই অভিবাসন অভিযান চলাকালে ফেডারেল কর্মকর্তার গুলিতে স্থানীয় বাসিন্দা রেনে নিকোল গুড নিহত হন। ধারাবাহিক এই দুই ঘটনার কারণে মিনেসোটায় ফেডারেল অভিবাসন অভিযানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভেনেজুয়েলার এক অভিবাসীকে আটক করতে গেলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। দাবি করা হয়, তিনি গাড়ি দিয়ে একটি পার্ক করা যানবাহনে ধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালান। এক পর্যায়ে এক কর্মকর্তা তাঁকে ধরে ফেললে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওই সময় কাছের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে দুজন ব্যক্তি বেরিয়ে এসে ওই কর্মকর্তাকে তুষার পরিষ্কারের ফাওড়া ও ঝাড়ুর হাতল দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিজের জীবন রক্ষার্থে কর্মকর্তা একটি গুলি ছোড়েন, যা ভেনেজুয়েলার ওই ব্যক্তির পায়ে লাগে।
গুলির পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ও হামলায় জড়িতরা একটি অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে পড়ে নিজেদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে আহত অভিবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হামলায় জড়িত অন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এই ঘটনার এক সপ্তাহ আগে, ৭ জানুয়ারি সকালে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় গাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় রেনে নিকোল গুড নামের এক নারীকে গুলি করে হত্যা করেন এক আইসিই কর্মকর্তা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ৩৭ বছর বয়সী গুড তখন বিক্ষোভ চলাকালে একজন আইনগত পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
গুডের মৃত্যুর পর মিনেসোটা ও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মিনিয়াপোলিস সিটি কাউন্সিলের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, একজন নাগরিককে ফেডারেল সরকারের হাতে প্রাণ হারাতে হয়েছে এবং এ ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত।
তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেন, গুড ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর গাড়ি দিয়ে আইসিই কর্মকর্তাকে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন এবং আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালানো হয়। এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ ভিডিও ফুটেজের কথা উল্লেখ করে জানায়, গুড আসলে সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
সর্বশেষ গুলির ঘটনার পর মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ বলেন, রাজ্য তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সহিংসতা পরিস্থিতি আরও জটিল করবে।
মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেন, শহরের পরিস্থিতি টেকসই নয় এবং ফেডারেল সরকারের আচরণ অনেক ক্ষেত্রেই অগ্রহণযোগ্য। তাঁর ভাষায়, স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ডিসেম্বরে মিনেসোটায় ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ নামে একটি অভিবাসন অভিযান শুরু করে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর। জানুয়ারির শুরুতে এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়। এর বিরুদ্ধে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে, যেখানে এই অভিযানকে অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সাত লাখ সত্তর হাজার ভেনেজুয়েলার অভিবাসী বসবাস করছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় চার লাখ ছিয়াশি হাজারের বৈধ কাগজপত্র ছিল না। অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কারণে গত এক দশকে বিপুল সংখ্যক ভেনেজুয়েলার দেশ ছেড়েছেন।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, ফেডারেল অভিযানের মাত্রা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
















