সিঙ্গাপুরের সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্রীতম সিংকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্যদের ভোটের পর প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই মর্যাদা বাতিল করেন। বুধবার সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটে এই সিদ্ধান্ত হয়। সিঙ্গাপুরের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টির।
সংসদীয় একটি কমিটির সামনে শপথ নিয়ে মিথ্যা বলার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরই প্রীতম সিংয়ের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। যদিও তিনি বরাবরই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। তিনি এখনো সংসদ সদস্য এবং বিরোধী ওয়ার্কার্স পার্টির মহাসচিব হিসেবে থাকছেন, তবে বিরোধীদলীয় নেতার পদ হারানোর ফলে অতিরিক্ত ভাতা ও সংসদে বিতর্কে প্রথম জবাব দেওয়ার অধিকারসহ কিছু সুবিধা আর পাবেন না।
সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মামলা বিরল, কারণ দায়িত্বে থাকা কোনো বিরোধী সাংসদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডের ঘটনা খুব কমই দেখা যায়। প্রীতম সিংই ছিলেন দেশটির ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি, যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধীদলীয় নেতার উপাধি পেয়েছিলেন।
এর আগে সমালোচকেরা অভিযোগ করেছেন, সিঙ্গাপুর সরকার রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করে থাকে, যদিও কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে।
বুধবার সংসদীয় বিতর্কে সংসদের নেতা ইন্দ্রানি রাজাহ বলেন, প্রীতম সিংয়ের মিথ্যা বক্তব্য সংসদের ওপর জনগণের আস্থাকে আঘাত করেছে এবং তিনি নিজের দায়িত্ব স্বীকার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। পাল্টা বক্তব্যে প্রীতম সিং বলেন, তাঁর বিবেক পরিষ্কার এবং তাঁর আচরণকে ‘অমর্যাদাকর’ বলা ঠিক নয়। তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রায় তিন ঘণ্টার বিতর্ক শেষে সংসদে প্রস্তাবটি পাস হয়, যাতে বলা হয় প্রীতম সিং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আর থাকতে পারবেন না। উপস্থিত ওয়ার্কার্স পার্টির সব ১১ জন সাংসদ প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন। একই সঙ্গে দলটির আরও দুই সাংসদের বিষয়ে ভবিষ্যতে আলাদা করে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং বলেন, দণ্ড ও সংসদীয় ভোটের পর প্রীতম সিংয়ের পক্ষে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে থাকা আর গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ওয়ার্কার্স পার্টিকে নতুন করে একজন সংসদ সদস্যের নাম প্রস্তাব করার আহ্বান জানান।
এই সিদ্ধান্তের পর বিবিসির প্রশ্নের জবাবে প্রীতম সিং একটি শব্দেই প্রতিক্রিয়া জানান, ‘#WeContinue’। ওয়ার্কার্স পার্টি জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে। দলটির বর্তমানে ১০৮ আসনের সংসদে ১২ জন সদস্য রয়েছেন।
এই ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালে, যখন ওয়ার্কার্স পার্টির সাংসদ রাইসাহ খান সংসদে পুলিশের আচরণ নিয়ে একটি অভিযোগ করেন, যা পরে তিনি মিথ্যা বলে স্বীকার করেন। তদন্তে তিনি দাবি করেন, দলের শীর্ষ নেতারা, যার মধ্যে প্রীতম সিংও ছিলেন, তাঁকে সেই বক্তব্য চালিয়ে যেতে বলেছিলেন। পরে রাইসাহ খান দল ও সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং তাঁকেও জরিমানা করা হয়।
এই মামলার শুনানিতে আদালত রায় দেয়, প্রীতম সিংয়ের আচরণে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে তিনি রাইসাহ খানকে মিথ্যা বক্তব্য সংশোধন করতে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। যদিও প্রীতম সিং বলেন, বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় তিনি সময় দিতে চেয়েছিলেন। গত ডিসেম্বরে তিনি এই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলেও হেরে যান।















