দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গত ৯ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে যৌথ বাহিনী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই সপ্তাহব্যাপী অভিযানে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত ও কিশোর গ্যাং সদস্যসহ মোট ৩২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের তালিকা
আইএসপিআর জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলোতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জব্দ করা হয়েছে:
- অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র: ২৮টি
- গোলাবারুদ: ৪১৯ রাউন্ড
- ককটেল: ১৪টি
- দেশীয় অস্ত্র: বিপুল সংখ্যক রামদা ও অন্যান্য সরঞ্জাম
- মাদকদ্রব্য: বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালানের পণ্য।
জননিরাপত্তা ও শিল্পাঞ্চলে নজরদারি
সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, চলমান পরিস্থিতিতে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অপরাধ দমনের পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে উদ্ভূত শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণেও সেনাবাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সেনাবাহিনীর বিশেষ বার্তা
আইএসপিআরের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। যেকোনো এলাকায় সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কার্যক্রম কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হলে তা দ্রুত নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে জানানোর জন্য আহ্বান করা হয়েছে। মূলত ২০২৬ সালের আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী যেন অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, সেজন্যই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।















