১০ দলের বৈঠকে ২৫০ আসনের রফাদফা চূড়ান্ত; মগবাজারের বৈঠকে ছিল না ইসলামী আন্দোলন, রাত ৮টায় সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত ঘোষণার প্রস্তুতি।
জামায়াতসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের জোটের সম্ভাব্য নাম “১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য” রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জামায়াতের কার্যালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। তবে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পৃথক জোট গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর জোটের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন এই জোটের নাম রাখা হয়েছে ‘১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য’। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১০টি দলের জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে এই জোটে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের থাকা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। আজকের গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে দলটির কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
২৫০ আসনে সমঝোতা, বাকি ৫০ নিয়ে অনিশ্চয়তা
জোটের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে ২৫০টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। বাকি ৫০টি আসন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চরমোনাইয়ের দল এই জোটে শেষ পর্যন্ত থাকবে কি না, তার ওপর ভিত্তি করেই ওই আসনগুলোর ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
বৈঠক শেষে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু জানান, আজ রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও আসন ভাগাভাগির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান ও ভিন্ন জোটের গুঞ্জন
জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম বলেন, “আজকের বৈঠকে আমাদের দলের কেউ ছিল না। আমরা কোনো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্বাচনে যাব না। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাব।”
দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, ইসলামী আন্দোলন এককভাবে অথবা সমমনা ছোট দলগুলোকে নিয়ে পৃথক একটি নির্বাচনি জোট গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত আসন সংখ্যা এবং নেতৃত্বের বণ্টন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে বনিবনা না হওয়াতেই এই দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যারা
মগবাজারের এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন:
- মাওলানা মামুনুল হক (আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)
- নাহিদ ইসলাম (আহ্বায়ক, এনসিপি)
- আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ (চেয়ারম্যান, বিডিপি)
- মজিবুর রহমান মঞ্জু (চেয়ারম্যান, এবি পার্টি)
- ড. আহমদ আবদুল কাদের (মহাসচিব, খেলাফত মজলিস)
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর রাত ৮টার সংবাদ সম্মেলনের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে এই জোটের ভবিষ্যৎ রূপরেখা।
















