আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার ঢাকায় দেওয়া এক বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে দেশে ও দেশের বাইরে থেকে ব্যাপক হারে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ৮৫ বছর বয়সী মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, নির্বাচনকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব, মিথ্যা খবর ও অনুমানভিত্তিক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চান।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ইউনূস ভলকার টুর্ককে জানান, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় উৎস থেকেই এই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং বিষয়টি সরকারকে উদ্বিগ্ন করছে। এ সময় জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর থেকেই বাংলাদেশ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা এটিকে ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গত বছরের আগস্টে আন্দোলনকারীদের আহ্বানে প্রবাসন থেকে দেশে ফিরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন মুহাম্মদ ইউনূস। নির্বাচন শেষে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন। ইউনূস বলেন, তিনি একটি ভেঙে পড়া রাজনৈতিক কাঠামোর দায়িত্ব নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্র ফিরে আসা ঠেকাতে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।
এই সংস্কার প্রস্তাবের ওপর একই দিনে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ইউনূসের মতে, এসব সংস্কারের মাধ্যমে নির্বাহী, বিচার বিভাগ ও আইনসভার মধ্যে ভারসাম্য ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে।
















