মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শুল্কযুদ্ধ সত্ত্বেও ২০২৫ সালে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। দেশটির কাস্টমস প্রশাসনের বুধবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, গত বছর চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনের রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে মোট ৩ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য কমলেও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি সেই ঘাটতি পুষিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, চীনের আমদানি প্রায় স্থিতিশীল থেকে ২ দশমিক ৫৮ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বেড়ে ১ দশমিক ১৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ২০২৪ সালে এই উদ্বৃত্ত ছিল ৯৯২ বিলিয়ন ডলার, যা পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ও অনিশ্চিত বাণিজ্য নীতির পর আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে চীনা রপ্তানিকারকেরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের বাজারে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কমেছে। রাশিয়ায় চীনা গাড়ির চাহিদা হ্রাস এবং রুশ অপরিশোধিত তেলের আমদানিমূল্য কমে যাওয়ায় এই পতন দেখা গেছে।
ইউক্রেনে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার মুখে চীন রাশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ভরসা হয়ে উঠেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই বাণিজ্যেও কিছুটা শীতলতা দেখা যাচ্ছে।
চীনের কাস্টমস প্রশাসনের উপমন্ত্রী ওয়াং জুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধির গতি এখনো দুর্বল এবং চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিবেশ জটিল ও কঠিন রয়ে গেছে। তবে তিনি জানান, বাণিজ্য অংশীদারদের বৈচিত্র্য বাড়ায় ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে এবং চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যের ভিত্তি এখনো দৃঢ়।
বিশ্লেষকদের মতে, সেমিকন্ডাক্টর, কম্পিউটার চিপ ও এসব তৈরির কাঁচামালের বৈশ্বিক চাহিদা চীনের রপ্তানি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ডিসেম্বর মাসে চীনের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। একই সময়ে আমদানিও ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
গত বছরের নভেম্বরেই প্রথমবারের মতো চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। প্রথম ১১ মাসেই এই ব্যবধান দাঁড়ায় ১ দশমিক ০৮ ট্রিলিয়ন ডলারে।
আইএনজির গ্রেটার চায়নার প্রধান অর্থনীতিবিদ লিন সং বলেন, চীনের এই রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বিশ্বের শীর্ষ ২০ অর্থনীতির কোনো একটির মোট দেশজ উৎপাদনের সমান। তাঁর মতে, এতে করে চীন প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা পাবে।
অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, চলতি বছরও বাণিজ্য উত্তেজনা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও রপ্তানি চীনের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। বিএনপি পারিবাসের প্রধান চীন অর্থনীতিবিদ জ্যাকলিন রংও মনে করেন, ২০২৬ সালেও রপ্তানি চীনের প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।















