সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পো থেকে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) শেষ যোদ্ধারাও শহর ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। কয়েক দিনের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর হওয়া এক যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় এই প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে।
আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল-ঘারিব আল জাজিরাকে জানান, রোববার ভোরে সরকারি বাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাসে করে এসডিএফ যোদ্ধাদের শহর ছাড়ার মধ্য দিয়ে আলেপ্পো এখন সম্পূর্ণভাবে এসডিএফমুক্ত হয়েছে।
এদিকে এসডিএফের প্রধান কমান্ডার মাজলুম আবদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে, যার ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং নিহত, আহত, আটকে পড়া বেসামরিক মানুষ ও যোদ্ধাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি মধ্যস্থতাকারীদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে বাস্তুচ্যুতদের নিরাপদে ঘরে ফেরার পথ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সিরীয় সেনাবাহিনী কুর্দি অধ্যুষিত শেখ মাকসুদ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসডিএফকে জাতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পরই সেখানে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। এসব সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হন এবং দেড় লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।
আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান, আলেপ্পোতে থাকা অবশিষ্ট এসডিএফ যোদ্ধাদের বাসে করে রাক্কায় পাঠানো হয়েছে, যা উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় এসডিএফের প্রধান নিয়ন্ত্রণাধীন শহর হিসেবে পরিচিত। সংঘর্ষ চলাকালে যোদ্ধারা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত তারা শহর ত্যাগ করে।
সংঘর্ষের পর সিরীয় সরকার বাহিনী শেখ মাকসুদ এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক আসাদ সরকারের পতনের পর এক বছর আগে এই এলাকায় এসডিএফ চেকপোস্টে আটক করা বেসামরিক কর্মী ও বিরোধী যোদ্ধাদের এখনো খোঁজা হচ্ছে।
দামেস্ক থেকে আল জাজিরার আরেক প্রতিবেদক জানান, আলেপ্পোতে আপাতত শান্ত অবস্থা ফিরে এসেছে এবং শেখ মাকসুদ ও আশরাফিয়াহ এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ যুদ্ধের অবসান ও জাতীয় ঐক্যের আশা প্রকাশ করেছেন।
এই সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে এসডিএফ ও সিরীয় সরকারের উভয়েরই যোগাযোগ রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র এসডিএফের সঙ্গে আইএসবিরোধী অভিযানে কাজ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলেপ্পোর সংঘর্ষের অবসান হলেও এসডিএফকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রশ্ন এখনো অনিশ্চিত। মূল বিরোধের সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
















