চাহিদার ৬০ শতাংশ ঘাটতিতে দ্বিগুণ দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য গ্রাহকরা
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকটে দেশজুড়ে ফিলিং স্টেশন ও দোকানে ঝুলছে ‘গ্যাস নেই’ নোটিশ, আর বাজারে চলছে নজিরবিহীন মূল্য নৈরাজ্য।
দেশের এলপিজি বাজারে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ী সমিতির হিসাব অনুযায়ী, যেখানে মাসিক চাহিদা এক লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ মেট্রিক টন, সেখানে বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৪০ শতাংশ। ফলে বাসাবাড়ির রান্না থেকে শুরু করে অটোগ্যাসনির্ভর পরিবহন খাত—সবখানেই তৈরি হয়েছে চরম অচলাবস্থা।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ এলপিজি বিক্রেতার দোকানে ঝুলছে ‘গ্যাস নেই’ লেখা বোর্ড। যেসব জায়গায় সিলিন্ডার মিলছে, সেখানে সরকারি নির্ধারিত ১২ কেজির বোতলের দাম ১ হাজার ৩০০ টাকার বদলে হাঁকা হচ্ছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
ভোক্তারা বলছেন, এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ফোন করেও কোনো নিশ্চয়তা মিলছে না। অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, বোতল থাকলেও ভেতরে গ্যাস নেই—তাই বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় অটোগ্যাস স্টেশন বন্ধ অথবা সীমিত সরবরাহের কারণে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছেন না।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) জানায়, দেশে বর্তমানে সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডারের বিপরীতে মাসে রিফিল হচ্ছে মাত্র সোয়া কোটি। যানবাহনে যেখানে মাসিক চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন।
খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বৈশ্বিক জাহাজ সংকট, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ঋণপত্র (এলসি) খুলতে জটিলতা এবং আমদানি অনুমোদনে দেরির কারণে একাধিক কোম্পানির উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
লোয়াবের সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, দেশে ২৮টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত এলপিজি কোম্পানির মধ্যে নিয়মিত আমদানি করতো মাত্র সাত থেকে আটটি। বাকি কোম্পানিগুলো ব্যাংকিং ও নীতিগত জটিলতায় আটকে থাকায় বাজারে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার সহযোগিতা করলে সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে।
আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, সরকারের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলে আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির আশা করা যাচ্ছে।
















