১০ জানুয়ারি ২০২৬: রাশিয়া, ইরান, চীনসহ ব্রিকস প্লাসভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ নৌ মহড়াকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, বৈশ্বিক সামুদ্রিক উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই মহড়া সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কেপটাউনের উপকূলে শনিবার শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী ‘উইল ফর পিস ২০২৬’ নামের এই নৌ মহড়া এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র উত্তর আটলান্টিকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি রুশ তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ট্যাংকারটি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছিল।
এই ঘটনা ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চীন, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলসহ একাধিক ব্রিকস প্লাস দেশের সম্পর্কেও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার যৌথ টাস্কফোর্সের কমান্ডার ক্যাপ্টেন এনডওয়াখুলু থমাস থামাহা মহড়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, এটি কেবল সামরিক অনুশীলন নয়, বরং ব্রিকস দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকারের প্রকাশ। তাঁর ভাষায়, জটিল হয়ে ওঠা সামুদ্রিক পরিবেশে এ ধরনের সহযোগিতা কোনো বিকল্প নয়, বরং একান্ত প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, এই মহড়ার লক্ষ্য হচ্ছে নৌপথ ও সামুদ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত ব্রিকস জোট সম্প্রতি সম্প্রসারিত হয়ে এতে যুক্ত হয়েছে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়া।
দক্ষিণ আফ্রিকার যৌথ অভিযানের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমফো মাতেবুলা জানান, চলতি সপ্তাহের এই নৌ মহড়ায় সব সদস্য দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। চীন ও ইরান ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে, রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পাঠিয়েছে করভেট শ্রেণির জাহাজ। দক্ষিণ আফ্রিকা অংশ নিয়েছে একটি ফ্রিগেট নিয়ে। ইন্দোনেশিয়া, ইথিওপিয়া ও ব্রাজিল পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
মহড়ার সময় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী বান্তু হলোমিসা বলেন, বৈশ্বিক উত্তেজনা বাড়ার আগেই এই মহড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সমস্যা থাকলেও সেগুলোকে অযথা আতঙ্কের কারণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
হলোমিসা আরও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য হলো ব্রিকস দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা এবং বিশেষ করে ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এর আগে ‘এক্সারসাইজ মোসি’ নামে পরিচিত এই মহড়াটি নভেম্বর মাসে হওয়ার কথা থাকলেও জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনের সঙ্গে সময়সূচির সংঘাতের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। ওই সম্মেলনটি ট্রাম্প প্রশাসন বর্জন করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ব্রিকস জোটকে ‘অ্যান্টি-আমেরিকান’ নীতি অনুসরণের অভিযোগ করে আসছে এবং সতর্ক করেছে, সদস্য দেশগুলোর ওপর বিদ্যমান শুল্কের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং কিছু নীতিগত অবস্থানের কারণেও দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার মুখে পড়েছে। এর মধ্যে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করা এবং অতীতে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে যৌথ নৌ মহড়া আয়োজনের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া ও চীন প্রথমবারের মতো ২০১৯ সালে যৌথ নৌ মহড়া পরিচালনা করেছিল।
















