ডিপফেক ও আপত্তিকর ছবি তৈরির অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ায় নিষেধাজ্ঞা, তদন্তে যুক্তরাজ্য
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট ‘গ্রোক’ (Grok) ব্যবহার করে আপত্তিকর ডিপফেক ছবি তৈরির অভিযোগে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও আইনি জটিলতা শুরু হয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রোক এআই ব্যবহার করে সেলিব্রিটি ও সাধারণ মানুষের আপত্তিকর বিকৃত ছবি এবং এমনকি শিশুদের যৌন নির্যাতনের কৃত্রিম ছবি তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে গ্রোক-এর ওপর সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। দেশটির যোগাযোগ ও ডিজিটাল মন্ত্রী মেতিয়া হাফিদ একে মানবাধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তার মারাত্মক লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এক্স কর্তৃপক্ষকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, এআই নিয়ন্ত্রণে তাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অফকম’ (Ofcom) বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে এবং আইন অমান্য করলে প্ল্যাটফর্মটি বন্ধ বা বিপুল অংকের জরিমানার মুখে পড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।
এই সমালোচনার জবাবে ইলন মাস্ক অনেকটা অনড় অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সরকারগুলো নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে আসলে ‘সেন্সরশিপ’ আরোপ করতে চাইছে। মাস্কের মতে, অন্যান্য এআই টুল দিয়েও এসব ছবি তৈরি সম্ভব, কিন্তু লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে কেবল তার প্রতিষ্ঠানকে। যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে এক্স কর্তৃপক্ষ ছবি সম্পাদনার সুবিধা কেবল ‘পেইড’ ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত করেছে, তবে যুক্তরাজ্য সরকার এই পদক্ষেপকে ‘অপমানজনক ও অপর্যাপ্ত’ বলে মন্তব্য করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রোক-কে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিতর্ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উদ্ভাবন বনাম অপব্যবহার রোধের বৈশ্বিক লড়াইকে আরও উসকে দিয়েছে। প্রযুক্তির এই অনিয়ন্ত্রিত বিস্তৃতি ঠেকাতে অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট অনুযায়ী কঠোর ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে কয়েকটি দেশ।
















