মিনেসোটা। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় অভিবাসন সংস্থা আইসের গুলিতে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। এতে ঘটনাটি ঘিরে দেশজুড়ে জনক্ষোভ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত থেকে স্থানীয় সংস্থাগুলোকে বাদ দেওয়ায় ফেডারেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
শুক্রবার মিনেসোটার একজন কৌঁসুলি সাধারণ জনগণের কাছে আহ্বান জানান, নিহত রেনি নিকোল গুডের মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো ভিডিও বা প্রমাণ থাকলে তা তদন্তকারীদের কাছে জমা দিতে। ৩৭ বছর বয়সী রেনি গুড বুধবার একটি অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের এক এজেন্টের গুলিতে নিহত হন।
ওই দিনই মিনেসোটা ভিত্তিক রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম আলফা নিউজ একটি ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও সেটি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে। ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল আইস কর্মকর্তা জোনাথন রসের দৃষ্টিকোণ থেকে, যিনি গুলি ছুড়েছিলেন।
ভিডিওতে শোনা যায় সাইরেনের শব্দ। দেখা যায়, ৪৩ বছর বয়সী রস রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ির চারপাশে ঘুরছেন এবং মোবাইল ফোনে ধারণ করছেন। একই সময়ে রেনি গুডের স্ত্রীও ঘটনাটি রেকর্ড করছিলেন এবং গাড়ির চারদিকে হাঁটছিলেন।
এক পর্যায়ে রেনি গুডকে বলতে শোনা যায়, তিনি রাগান্বিত নন। তার এক হাত স্টিয়ারিংয়ে এবং অন্য হাতটি খোলা জানালার বাইরে ছিল। এ সময় তার স্ত্রী নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও সাবেক সেনা সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তীব্র ভাষায় কথা বলেন।
কিছুক্ষণ পর আরও কয়েকজন কর্মকর্তা গাড়ির চালকের পাশে এগিয়ে আসেন এবং রেনি গুডকে গাড়ি থেকে নামতে নির্দেশ দেন। ভিডিওতে দেখা যায়, এরপর গাড়িটি সামান্য পেছনে যায় এবং সামনের দিকে ঘোরে। ঠিক তখনই রস গুলি ছোড়েন। ক্যামেরা কেঁপে উঠে আকাশের দিকে চলে যায় এবং পরে আবার রাস্তায় ফিরে আসে। তখন দেখা যায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।
এরপর একটি বিকট শব্দ শোনা যায়, যখন গাড়িটি রাস্তায় পার্ক করা অন্য যানবাহনের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
এই ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন আইস কর্মকর্তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, রেনি গুড একজন অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী ছিলেন এবং ইরাক যুদ্ধের সাবেক সেনা রস আত্মরক্ষার জন্যই গুলি ছুড়েছেন। তবে স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ভিডিওতে গাড়ি সরে যাওয়ার বা গুলি ছোড়ার সুনির্দিষ্ট মুহূর্ত স্পষ্ট নয়।
মিনেসোটার স্থানীয় নেতারা তদন্ত থেকে রাজ্য ও স্থানীয় সংস্থাগুলোকে বাদ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মিনিয়াপোলিসের মেয়র জেকব ফ্রে বলেন, এই ঘটনায় নিয়ম ভাঙার কোনো সুযোগ নেই। তার মতে, বিচার বিভাগ ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন আগেভাগেই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়াটা উদ্বেগজনক।
তিনি জানান, সাধারণত এ ধরনের তদন্ত রাজ্যের ক্রিমিনাল অ্যাপ্রিহেনশন ব্যুরো পরিচালনা করে। কিন্তু এবার তাদের যুক্ত করা হয়নি। কেন এমন করা হলো, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রেনি গুড ছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন কঠোরতার পর আইসের গুলিতে নিহত হওয়া চতুর্থ ব্যক্তি। তার স্ত্রী বেকা গুড স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, তারা প্রতিবেশীদের সমর্থন জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন। তাদের হাতে ছিল বাঁশি, আর কর্মকর্তাদের হাতে ছিল অস্ত্র।
মিনেসোটার এই ঘটনা এবং ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলির আরেকটি ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিবাদ ছড়িয়ে দিয়েছে। মিনিয়াপোলিসে শুক্রবারও বিক্ষোভ চলতে থাকে। একটি ফেডারেল স্থাপনার সামনে শত শত মানুষ জড়ো হন, যা এখন আইস বিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। আয়োজকদের মতে, নিহতের প্রতিবাদে সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আরও বহু বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
















