ভোটের প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা; সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকারীদের শনাক্তে কাজ করছে গোয়েন্দারা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ৩২ দিন। নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখনই একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। বিশেষ করে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে একতরফা, ভিত্তিহীন ও উস্কানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে জনমনে সংশয় ও শঙ্কা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই বিভ্রান্তিকারীদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ বিষয়ে অত্যন্ত কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে এখনো ভিত্তিহীন সন্দেহ ও সংশয় ছড়াচ্ছেন, তাদের ডিজিটাল প্রোফাইল এবং অতীত ভূমিকা সরকারের কাছে স্পষ্ট। অপপ্রচার শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও ডিজিটাল মনিটরিং কয়েক গুণ জোরদার করা হয়েছে। মূলত সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া পোস্টার, এআই (AI) দিয়ে তৈরি বিকৃত ভিডিও ও মনগড়া বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। অপপ্রচারকারীদের লক্ষ্য মূলত সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অহেতুক উদ্বেগ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করে নির্বাচনের সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ নসাৎ করা।
নির্বাচনের মাঠের পরিস্থিতি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও বিভিন্ন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আসছে, যা অপপ্রচারকারীদের জন্য নতুন রসদ সরবরাহ করছে। গত বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেছেন যে, মাঠ প্রশাসনে এখনও আগের আমলের ‘দলীয় ডিসি-এসপি’ বহাল রয়েছে। তাদের দ্রুত অপসারণ না করলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, এনসিপি বা জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও মনোনয়নপত্র বাছাইকালে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর এই উদ্বেগ কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে নানা চটকদার ও বিভ্রান্তিকর অপতথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি দাবি করেছেন, জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত ও নির্বাচনের বাইরে থাকা একটি গোষ্ঠী অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে দেশে বিশৃঙ্খলা ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নির্বাচন বানচালের ছক কষছে। তবে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল উভয়েই আশাবাদী যে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণ একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে এবং কোনো অপপ্রচারই এই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। তারা মনে করেন, যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে, দেশবাসীই তাদের চিহ্নিত করবে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করছেন। বিশেষ করে নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে প্রপাগান্ডার মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ভোটারদের যেকোনো তথ্য সামাজিক মাধ্যমে দেখার পর তা বিশ্বাস করার আগে মূলধারার গণমাধ্যম বা নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করে নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকার ও ইসি উভয় পক্ষই এই বার্তা দিতে চায় যে, এবার কোনোভাবেই নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না।
















