সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে রংপুর রাইডার্সের হয়ে হ্যাটট্রিক করে বিপিএলের ইতিহাসে নিজের নাম আরও উঁচুতে তুলে ধরেছেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। ম্যাচের শেষদিকে টানা তিন বলে উইকেট তুলে নেওয়ার পর শান্ত স্বভাবের এই পেসার কেবল মুচকি হাসিতে উদ্যাপন করেন, যা দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে।
প্রথমে মাহিদুল ইসলাম ক্যাচ দিয়ে ফেরেন উইকেটকিপার নুরুল হাসানের হাতে। পরের বলেই নতুন ব্যাটসম্যান জহির খান ক্যাচ তুলে দেন, সেটিও নেন মৃত্যুঞ্জয় নিজেই। হ্যাটট্রিক বলেও তিনি ছিলেন নির্বিকার। শেষ বলে বিলাল সামি স্কয়ার লেগে শট খেললে লিটন দাস ক্যাচ নেন, তখনই দুই হাত ছড়িয়ে সাফল্য উদ্যাপন করেন মৃত্যুঞ্জয়।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ-এ মৃত্যুঞ্জয়ই এখন একমাত্র বোলার, যাঁর দুটি হ্যাটট্রিক রয়েছে। রংপুর রাইডার্সের হয়ে করা এই সাফল্য ছিল বিপিএলের ইতিহাসে দশম হ্যাটট্রিক।
বিপিএলের হ্যাটট্রিকের গল্প শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে, যখন প্রথম আসরে পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ সামি দুরন্ত রাজশাহীর হয়ে কীর্তি গড়েন। এরপর সময়ের সঙ্গে তালিকায় যুক্ত হয়েছেন আল-আমিন হোসেন, আলিস ইসলাম, ওয়াহাব রিয়াজ, আন্দ্রে রাসেল, শরিফুল ইসলাম, মঈন আলী ও মেহেদী হাসান রানা।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিপিএলের ১০টি হ্যাটট্রিকের মধ্যে পাঁচটিই এসেছে বাঁহাতি পেসারদের হাত ধরে। এর মধ্যে দুটি একাই করেছেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। ২০১৯ সালে সর্বোচ্চ তিনটি হ্যাটট্রিক হয়েছিল, আর চলমান দ্বাদশ আসরেই হয়েছে দুটি।
এই ধারাবাহিক সাফল্যে বিপিএলের ইতিহাসে হ্যাটট্রিক মানেই এখন মৃত্যুñজয়ের নাম আলাদা করে উচ্চারিত হচ্ছে, যা তাঁকে টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় বোলারে পরিণত করেছে।
















