খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া পদে স্থায়ী কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত; ভারপ্রাপ্ত থেকে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্বে তারেক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতৃত্বে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন এসেছে। দলটির দীর্ঘদিনের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শূন্য হওয়া পদে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সাত বছর ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি এখন দলটির পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্বে আসীন হলেন।
বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দলীয় গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী চেয়ারপারসনের পদটি শূন্য হওয়ায় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সভায় বসেন এবং তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তাব পাস করেন। এর ফলে তিনি এখন থেকে বিএনপির প্রধান হিসেবে সকল সাংগঠনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ ক্ষমতা প্রাপ্ত হলেন। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর থেকেই এই পদটি শূন্য ছিল এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলের নেতৃত্ব সুসংহত করতেই এই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল আশির দশকে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা ইউনিটের একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে। ২০০২ সালে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে তিনি লন্ডনে অবস্থান করেই ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে তিনি স্বদেশে ফিরে আসেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের হাল ধরেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাসে সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনি কৌশলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানের এই অভিষেক বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকবেন।
















