ভারতের সাবেক কূটনীতিক বীণা সিক্রি সতর্ক করে বলেছেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে পাকিস্তানের কৌশলগত প্রভাববলয়ের দিকে এগোচ্ছে, যা ভারতের পূর্ব সীমান্ত ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, ইসলামপন্থী রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সংশ্লিষ্টতা এবং পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের পুনরুত্থান এই আশঙ্কাকে জোরালো করছে।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের আগে পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে বাংলাদেশের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ ছিল, পাকিস্তান আবার সেই অবস্থায় ফিরে যেতে চায়। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে এবং এর মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী দেশটির ক্ষমতার কাঠামোয় প্রভাব বিস্তার করেছে।
বীণা সিক্রির দাবি, গত দেড় বছরে বাংলাদেশের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোয় পাকিস্তানের প্রভাব বাড়ানোর পরিকল্পিত চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভিসা ও বাণিজ্যসংক্রান্ত নানা বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন যেমন লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জইশ-ই-মোহাম্মদ আবার সক্রিয় হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি ভারতের ওপর পূর্ব দিক থেকে চাপ বাড়াতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা।
তবে বীণা সিক্রি মনে করেন, এই রাজনৈতিক গতিপথ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নয়। তাঁর মতে, দেশটির জনগণ ধর্মপ্রাণ হলেও কট্টর ইসলামপন্থী শাসনব্যবস্থা বা শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে নেই। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ছাড়া স্থিতিশীলতা সম্ভব নয় এবং দীর্ঘদিনের অস্থিরতা বাংলাদেশ ও ভারতের উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।
সাবেক এই কূটনীতিকের মতে, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি উগ্রপন্থী প্রভাব ও বাহ্যিক হস্তক্ষেপ নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বাস্তবতা ক্রমেই পাকিস্তানের মতো হয়ে উঠতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে।
















