তাইওয়ানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাপানের ওপর নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে চীন। সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য জাপানে পাঠানো নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে টোকিও, যা এই পদক্ষেপকে অগ্রহণযোগ্য ও দুঃখজনক বলে আখ্যা দিয়েছে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যেসব পণ্য জাপানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে, সেগুলোর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে কোন কোন পণ্য এর আওতায় পড়বে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
চীনের অভিযোগ, তাইওয়ান নিয়ে জাপানের সাম্প্রতিক বক্তব্য ভুল ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং এ বিষয়ে বিদেশি মন্তব্যকে স্পর্শকাতর বলে মনে করে।
এদিকে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা চীনের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি করেছে। জাপানের এশিয়া ও ওশেনিয়া বিষয়ক ব্যুরোর মহাসচিব মাসাকি কানাই বেইজিংয়ে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে জানান, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং জাপানের কাছে তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
ইতিহাস ও ভূখণ্ড সংক্রান্ত নানা বিরোধের কারণে চীন ও জাপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই জটিল। তবে গত বছর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেছিলেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, তাহলে জাপান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তার এই বক্তব্যের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।
গত নভেম্বরে সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে তাকাইচি বলেন, তাইওয়ানে চীনের আক্রমণ জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে সমষ্টিগত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা হতে পারে। এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় চীন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নতুন বছরের ভাষণে তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের পুনর্মিলনকে অনিবার্য বলে উল্লেখ করেন। এর কিছুদিন আগেই চীনের সামরিক বাহিনী তাইওয়ান ঘিরে অবরোধের মহড়া চালায়।
তাইওয়ান কার্যত স্বশাসিত হলেও আন্তর্জাতিকভাবে খুব কম দেশই তাকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। জাপানসহ অধিকাংশ দেশ বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেয় না। চীনও স্পষ্ট করে জানিয়ে রেখেছে, তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দিলে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা সম্ভব নয়।
















