যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অভিযুক্ত মাদক পাচারকারী নৌযানের ওপর নতুন এক হামলায় অন্তত পাঁচজনকে হত্যা করেছে এবং সম্ভাব্য জীবিতদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডকে তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। বুধবার ইউএস সাউদার্ন কমান্ড এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। তবে হামলাগুলো ঠিক কোথায় সংঘটিত হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
এর আগের বেশ কয়েকটি হামলা ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় চালানো হয়েছিল। সাউদার্ন কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকটি নৌযান কাছাকাছি অবস্থানে চলাচল করছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, এসব নৌযান পরিচিত মাদক পাচার রুটে একটি বহরের অংশ ছিল এবং হামলার আগে তারা একে অপরের মধ্যে মাদক হস্তান্তর করেছিল। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম দফা অভিযানে একটি নৌযানে থাকা তিনজন নিহত হয়। পরে বাকি দুই নৌযানের আরোহীরা সেগুলো ছেড়ে সাগরে ঝাঁপ দেয়। পরবর্তী হামলায় ওই নৌযানগুলো ডুবে যায় এবং দ্বিতীয় দফা অভিযানে আরও দুইজন নিহত হয়।
মার্কিন বাহিনী জানায়, জীবিতদের উদ্ধারে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করতে কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি উল্লেখযোগ্য, কারণ গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে এক হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত নৌযানে থাকা জীবিতদের ওপর আবার হামলা চালানো নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
রয়টার্সের বরাতে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, প্রশান্ত মহাসাগরে অন্তত আটজন নৌযান ছেড়ে পালিয়েছেন এবং তাদের খোঁজে অভিযান চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, তারা একটি সি-১৩০ উড়োজাহাজ মোতায়েন করেছে এবং ওই এলাকায় থাকা জাহাজগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তল্লাশি চালাচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে এ ধরনের হামলায় এটি নতুন নয়। অক্টোবরে দুটি হামলার পর জীবিত কয়েকজনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তবে পরে মেক্সিকোর উপকূলে আরেকটি হামলার ঘটনায় একজন জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধারে অভিযান চালিয়েও সফল হওয়া যায়নি।
সর্বশেষ এই হামলাগুলো নিয়ে সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট নৌযান হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩টি এবং নিহতের সংখ্যা অন্তত ১১২ জনে পৌঁছেছে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়।
ট্রাম্প এসব হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন মাদক কার্টেলগুলোর সঙ্গে এক ধরনের সশস্ত্র সংঘাতে জড়িত। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে অঞ্চলটিতে ১৫ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের তেলসম্পদ দখলের লক্ষ্যে সরকার উৎখাতের চেষ্টা করছে। ট্রাম্প সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার একটি এলাকায় মাদকবোঝাই নৌযান লোডের স্থান লক্ষ্য করে হামলার কথা উল্লেখ করেন। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই স্থল হামলা সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনী পরিচালনা করেনি এবং ট্রাম্প আগেই ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযান চালাতে সিআইএকে অনুমতি দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
















