ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে ৩০০ আসনের মধ্যে শতাধিক আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে একে ‘কৌশলগত’ অবস্থান বলা হলেও অনেক আসনেই দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন।
কৌশলগত কারণে ডামি প্রার্থী ও জোটের আসনে স্বতন্ত্রের লড়াই: ২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা ঘিরে অপেক্ষা
ঢাকা
নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। শতাধিক আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটার ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হলেও দল একে কৌশলগত প্রস্তুতি হিসেবে দেখছে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আজ ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনেই স্পষ্ট হবে কারা দলের নির্দেশে সরে দাঁড়াচ্ছেন আর কারা ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে থাকছেন।
আইনি জটিলতা এড়াতে ‘বিকল্প’ প্রার্থী
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, ঋণখেলাপি বা আইনি জটিলতায় কোনো হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলে যেন আসনটি শূন্য না থাকে, সেজন্যই অনেক জায়গায় বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। বিশেষ করে বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসনে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাশাপাশি বিকল্প প্রার্থী হিসেবে যথাক্রমে মোর্শেদ মিল্টন ও রফিকুল আলম মজনু মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। একইভাবে নেত্রকোনা-৪ আসনে লুত্ফুজ্জামান বাবরের পাশাপাশি তার স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণীও মনোনয়ন দাখিল করেছেন।
জোটের আসনে অস্বস্তি ও স্বতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ
বিএনপি এবার বেশ কিছু আসন জোটের শরিকদের ছেড়ে দিলেও সেসব জায়গায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা প্রার্থী হয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জুনায়েদ আল হাবীবকে আসন ছাড়লেও সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরের পাশাপাশি বিএনপির হাসান মামুনও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার বিপরীতে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মীর শাহে আলম মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
বিদ্রোহীদের কড়া বার্তা
দলের হাইকমান্ড থেকে জানানো হয়েছে, কৌশলগত কারণে যারা বিকল্প প্রার্থী হয়েছেন, তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়ে সরে দাঁড়াতে হবে। তবে যারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ২০ জানুয়ারির পর বোঝা যাবে ধানের শীষের জোয়ারের মুখে নিজ দলের কতজন নেতা স্বতন্ত্র লড়াইয়ে টিকে থাকেন।
















