বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ছত্রচ্ছায়ায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চাঁদাবাজি। ফুটপাতের ক্ষুদ্র বিক্রেতা থেকে শুরু করে শিল্পপতি—কেউই রেহাই পাচ্ছেন না এই চক্রের হাত থেকে। বিশেষ করে নতুন বাড়ি নির্মাণ বা জমি কেনাবেচার খবর পেলেই বিদেশে পলাতক ও কারাবন্দি সন্ত্রাসীদের নামে দাবি করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ। চাঁদা না দিলেই চলছে গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মতো ভয়াবহ ঘটনা।
বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ ও ‘বার্মা সাইফুল’ চক্রের দাপট: গত ১৫ মাসে ১৬ থানায় ৫৫ মামলা, প্রাণভয়ে মুখ খুলছেন না অনেক ভুক্তভোগী
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে নাভিশ্বাস উঠেছে জনজীবনে। গত ১৫ মাসে ৫৫টি মামলা হলেও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য কমেনি। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও সাধারণ মানুষের মাঝে এখনো কাটেনি আতঙ্ক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর চান্দগাঁও, বায়েজিদ, পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর বাহিনী। বর্তমানে তার হয়ে ‘ছোট সাজ্জাদ’ (কারাবন্দি) ও ‘বার্মা সাইফুল’ চক্র মাঠ পর্যায়ে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে।
গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের আতঙ্ক
সম্প্রতি নগরীর হামজারবাগে একটি নির্মীয়মাণ ভবনে ৮০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, চাঁদা না পেয়ে ওই ভবন মালিকের ঝুটের গুদামেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বায়েজিদের জাঙ্গালপাড়াতেও একই কায়দায় এক ব্যবসায়ীর গুদামে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী এক নারী উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী তার কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছেন এবং টাকা না দিলে সপরিবারে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে, সাবেক এক ছাত্রদল নেতা চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় তার বাড়িতে ১৫-২০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে সন্ত্রাসীরা।
ফুটপাত ও পরিবহনেও চাঁদাবাজির থাবা
কেবল বড় ব্যবসা নয়, নগরীর নিউমার্কেট, আমতলা, আগ্রাবাদ ও বহদ্দারহাটের মতো জনাকীর্ণ এলাকার ফুটপাতও এখন চাঁদাবাজদের দখলে। দোকানের আকারভেদে দৈনিক ২৫০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হচ্ছে হকারদের। অটোরিকশা ও বাস থেকেও নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।
পুলিশের অভিযান ও ভাষ্য
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) জানিয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ১৫ মাসে ১৬টি থানায় চাঁদাবাজির ঘটনায় ৫৫টি মামলা হয়েছে এবং ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, “চাঁদাবাজি বা অন্য যেকোনো বেআইনি কাজের অভিযোগ পেলে আমরা ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
















