ইরানকে ঘিরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে চীন প্রকাশ্যে খুব সক্রিয় না হলেও নেপথ্যে সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং একদিকে নিজেকে শান্তিপ্রিয় শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে সরাসরি জড়ানো থেকে দূরে থাকছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এখন এমন এক কৌশল অনুসরণ করছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা এড়িয়ে চলা এবং একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা—দুই দিকই সামলাতে হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়লেও চীন সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে তারা “বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে সমালোচনা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের পররাষ্ট্রনীতির একটি মূলনীতি হলো অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করা। তাই তারা ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের মতো ভূমিকা নিতে আগ্রহী নয়, যদিও তাদের সেই সক্ষমতা রয়েছে।
একই সময়ে চীন মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যা তাকে আরও সতর্ক অবস্থান নিতে বাধ্য করছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও চীন ঝুঁকি এড়াতে চাইছে। বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা চীনের জ্বালানি নিরাপত্তাকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। পাশাপাশি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও রপ্তানি বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে আসন্ন বৈঠককে সামনে রেখে চীন সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতেও আগ্রহী। ফলে ইরান ইস্যুতে অতিরিক্ত অবস্থান নেওয়া থেকে বিরত রয়েছে বেইজিং।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন সরাসরি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে না এসে পরোক্ষভাবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে পাকিস্তানের মতো অংশীদার দেশকে ব্যবহার করে তারা আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে।
সব মিলিয়ে চীন এমন এক কৌশল নিয়েছে, যেখানে তারা সংঘাত থেকে দূরে থেকে প্রভাব বজায় রাখতে চায়—একদিকে শান্তির আহ্বান, অন্যদিকে সরাসরি দায়িত্ব নেওয়া থেকে বিরত থাকা।
















