মেক্সিকো, স্পেন ও ব্রাজিল কিউবার সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানিয়ে দেশটির জনগণের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, কিউবার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল দেশটির জনগণেরই থাকা উচিত।
বার্সেলোনায় আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক বৈঠকে এই তিন দেশের নেতারা যৌথ বিবৃতি দেন। সেখানে তারা কিউবার জনগণ যে মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর বাণিজ্যিক অবরোধ বজায় রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চাপ আরও বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি বন্ধ করা এবং অন্য দেশগুলোকে কিউবায় তেল সরবরাহ না করার হুমকি দেওয়ায় দেশটিতে জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা একসঙ্গে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়।
তারা আরও জানান, কিউবার জনগণের কষ্ট লাঘবে মানবিক সহায়তা বাড়াতে সমন্বিতভাবে কাজ করবে তাদের দেশগুলো।
যৌথ বিবৃতিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করা হলেও জাতিসংঘ সনদের আলোকে ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌম সমতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের নীতিগুলো মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
তিন দেশ স্পষ্ট করে জানায়, কিউবার যে কোনো সমাধান এমন হতে হবে যাতে দেশটির জনগণ স্বাধীনভাবে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে কিউবার বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তিনি এমনকি সামরিক পদক্ষেপের কথাও উড়িয়ে দেননি।
অন্যদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল বলেছেন, পরিস্থিতি কঠিন হলেও তারা যেকোনো ধরনের হুমকির মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
বার্সেলোনার এই বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা বহুপাক্ষিক সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান বিভাজনের বিপরীতে ঐক্যের বার্তা দেন।
















