নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে; অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণে সওয়াব ও মানবিকতার তাগিদ
দেশজুড়ে জেঁকে বসা হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমের হিমেল হাওয়ায় শিশু, বৃদ্ধ এবং বাস্তুহারা নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে। এমন পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি শীতার্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | সকাল ১০:৪৫ মিনিট
স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুর রকীব, মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল করিম এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মাওলানা মোছাব্বির রহমান মোল্লা দেশের বর্তমান শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জনজীবনে স্থবিরতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
নেতৃবৃন্দ বলেন, কনকনে শীত ও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার কারণে দেশের স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও নদ-নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তীব্র শীতের প্রভাবে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগব্যাধির প্রকোপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ কাজে বের হতে না পারায় তাদের পরিবারে খাদ্যসংকটও দেখা দিচ্ছে।
বিত্তশালীদের প্রতি মানবিক আহ্বান
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, “শীতবস্ত্রের অভাবে ছিন্নমূল নারী-পুরুষ ও শিশুরা অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করছে। ইসলামের শিক্ষা হলো আর্তমানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করা। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি নিজ নিজ এলাকার অসহায়দের পাশে দাঁড়ান, তবে এই কষ্ট লাঘব সম্ভব। এটি কেবল মানবিক দায়িত্বই নয়, বরং পরকালীন মুক্তির জন্য এক মহান নেক আমল।”
সরকারের প্রতি নজরদারির তাগিদ
তারা আরও বলেন, কেবল ব্যক্তিপর্যায়ে নয়, সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ সংস্থাগুলোকেও জরুরি ভিত্তিতে শীতবস্ত্র ও প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে দুর্গত এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে হবে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে যেখানে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি, সেখানে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
নেতৃবৃন্দ বিত্তশালীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আপনার অব্যবহৃত একটি কম্বল বা একটি সোয়েটার একজন অসহায় মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারে। আসুন, এই কঠিন সময়ে আমরা একে অপরের সহায় হই।”
















