গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালের গণআন্দোলন—সব শহীদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বিএনপি আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, শহীদদের রক্তের ধারাবাহিক ইতিহাস বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা দেয়। ১৯৭১ সালে যেমন মানুষ জীবন দিয়ে স্বাধীনতা এনেছিল, তেমনি ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, নারী-পুরুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এক হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে।
তারেক রহমান বলেন, আজ বাংলাদেশের মানুষ মৌলিক অধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। তাদের প্রত্যাশা—যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাওয়া এবং নিরাপদ রাষ্ট্রে বসবাস করা।
তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার। পাহাড় ও সমতল, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাইকে নিয়ে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নারী, পুরুষ ও শিশু নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরে আসতে পারে।
দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী, কোটি কোটি তরুণ ও শিশু, প্রতিবন্ধী মানুষ এবং কৃষক-শ্রমিক রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। ঐক্যবদ্ধ হলে এসব মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব।
মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের শহীদরা যেমন একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তেমনি সাম্প্রতিক আন্দোলনেও তরুণ প্রজন্ম দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনে বহু মানুষ গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নিহত ওসমান হাদি-কে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি গণতন্ত্র ও মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সব শহীদের রক্তের ঋণ শোধের একমাত্র পথ হলো প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী দিনে দেশ গড়ার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। শক্ত গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর বাংলাদেশকে দাঁড় করাতে হবে।
দেশের শান্তি রক্ষার ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, যেকোনো উসকানির মুখে ধৈর্য ধরতে হবে। তিনি পরপর তিনবার বলেন, ‘আমরা দেশের শান্তি চাই।’
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের উক্তি স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’-এর মতো আজ তিনি বলতে চান, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি’। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি তার মা, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন এবং দেশ পরিচালনায় ন্যায়পরায়ণতার পথ অনুসরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
















