থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ পুনরায় শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে দুই দেশ চলতি সপ্তাহে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতারা উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানো এবং আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও সোমবার এই বৈঠকের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর-এ অনুষ্ঠিত দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিশেষ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকটি আয়োজন করেছিল আসিয়ান, যার উদ্দেশ্য ছিল ভেঙে পড়া যুদ্ধবিরতি পুনরুদ্ধারের পথ খোঁজা।
সিহাসাক জানান, বুধবার থাইল্যান্ডের চান্তাবুরি প্রদেশে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত কমিটির কাঠামোর আওতায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে জুলাই মাসে সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হলে আসিয়ানের চেয়ার দেশ মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, যা পরে ভেঙে পড়ে।
তবে মালয়েশিয়ায় আঞ্চলিক বৈঠক শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, থাই সেনাবাহিনী সিয়েম রিয়াপ ও প্রেহ ভিহেয়ার প্রদেশের এলাকায় যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালিয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় থাইল্যান্ড জানায়, কম্বোডিয়া তাদের ভূখণ্ডে ডজনের বেশি রকেট নিক্ষেপ করেছে, যার জবাবে থাই বিমান বাহিনী কম্বোডিয়ার দুটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর থেকে দুই দেশের ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্তজুড়ে প্রতিদিনই রকেট ও কামান হামলার ঘটনা ঘটছে। লাওস সীমান্তবর্তী বনাঞ্চল থেকে শুরু করে থাইল্যান্ড উপসাগরসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায়ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেও কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আশাবাদী যে থাইল্যান্ড আন্তরিকতার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে এগিয়ে আসবে। তবে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, আসন্ন বৈঠক থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা নাও আসতে পারে। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাধ্যমে নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমেই কার্যকর হতে হবে।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ এবং তা যাচাইয়ের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা হবে।
এর আগে আসিয়ান এক বিবৃতিতে উভয় দেশকে সব ধরনের শত্রুতা অবিলম্বে বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া, পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন এবং সংলাপে ফিরে আসার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী বাস্তুচ্যুত বেসামরিক মানুষদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করার তাগিদও দেয় আঞ্চলিক জোটটি।
















