জাপান বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়ার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিইগাতা প্রদেশের স্থানীয় সরকার সোমবার আংশিকভাবে কেন্দ্রটি চালুর অনুমোদন দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পথে এগোল। ২০১১ সালের ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনার পর দেশের সব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জ্বালানি নীতিতে পরিবর্তন এনে একাধিক কেন্দ্র ধাপে ধাপে পুনরায় চালু করা হচ্ছে।
নিইগাতা প্রাদেশিক পরিষদ গভর্নর হিদেও হানাজুমির প্রতি আস্থাভোট পাস করে, যিনি গত মাসে কেন্দ্রটি চালুর পক্ষে মত দেন। এই ভোটের মধ্য দিয়ে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পুনরায় চালুর পথ পরিষ্কার হয়। ২০১১ সালে ভূমিকম্প ও সুনামির পর ফুকুশিমায় তিনটি রিয়্যাক্টর গলে যাওয়ার ঘটনায় জাপানের পারমাণবিক শক্তির ওপর জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির উচ্চ ব্যয় ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার আবারও কিছু পারমাণবিক কেন্দ্র চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে জাপানে কার্যক্ষম থাকা ৩৩টি পারমাণবিক কেন্দ্রের মধ্যে ১৪টি ইতোমধ্যে পুনরায় চালু হয়েছে। কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি পরিচালনা করছে টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি, যে প্রতিষ্ঠানটি ফুকুশিমা কেন্দ্রও পরিচালনা করত।
জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের তথ্য অনুযায়ী, টেপকো আগামী ২০ জানুয়ারি কেন্দ্রটির সাতটি রিয়্যাক্টরের মধ্যে প্রথমটি চালু করার কথা ভাবছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, শুধু একটি রিয়্যাক্টরই টোকিও অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় দুই শতাংশ বাড়াতে সক্ষম।
তবে সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। আস্থাভোটের দিন প্রায় ৩০০ মানুষ কেন্দ্র পুনরায় চালুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। তারা ‘নো নিউকস’, ‘কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পুনরায় চালুর বিরোধিতা’ এবং ‘ফুকুশিমার পাশে দাঁড়াও’ লেখা ব্যানার বহন করেন। ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর বাস্তুচ্যুত কৃষক ও পারমাণবিক বিরোধী কর্মী আয়াকো ওগা বলেন, পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তারা নিজেরাই প্রত্যক্ষ করেছেন এবং সেটি উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, দুর্ঘটনার স্মৃতি এখনও তাকে মানসিকভাবে তাড়া করে ফেরে।
সরকার বলছে, পারমাণবিক কেন্দ্র চালু হলে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং আমদানিকৃত গ্যাস ও কয়লার ওপর নির্ভরতা কমবে, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাতেও সহায়ক হবে। গত বছর জাপান তরল প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা আমদানিতে প্রায় ১০.৭ ট্রিলিয়ন ইয়েন ব্যয় করেছে, যা দেশের মোট আমদানির বড় একটি অংশ।
সরকার ও বিরোধীদের টানাপোড়েনের মধ্যে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়ার পুনরায় চালু জাপানের পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
















