সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএলের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্প্রতি সিরিয়ার পালমিরা শহরে হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও এক দোভাষী নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে।
শুক্রবার নর্থ ক্যারোলিনার রকি মাউন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, গত সপ্তাহে আমাদের তিনজন সাহসী নাগরিককে যারা হত্যা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি সরাসরি বড় হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তার ভাষায়, এই অভিযান ছিল অত্যন্ত নিখুঁত ও সফল। প্রতিটি লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত করা হয়েছে এবং শক্তির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানান, এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন হকআই স্ট্রাইক। তিনি একে যুদ্ধের সূচনা নয়, বরং প্রতিশোধের ঘোষণা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, আইএসআইএলের বহু যোদ্ধা এতে নিহত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কমান্ড সেন্টকম জানায়, অভিযানে যুদ্ধবিমান, আক্রমণকারী হেলিকপ্টার ও ভারী কামান ব্যবহার করে শতাধিক নির্ভুল অস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এসব হামলায় আইএসআইএলের অবকাঠামো ও অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করা হয়।
এই অভিযানে জর্ডানের বিমানবাহিনীও অংশ নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে যেন উগ্রপন্থীরা এই অঞ্চলগুলো ব্যবহার করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই তারা সহযোগিতা করেছে।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, পূর্ব সিরিয়ার দেইর আজ জোর প্রদেশে অন্তত পাঁচজন আইএসআইএল সদস্য নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ড্রোন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একটি সেলের প্রধানও রয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, হোমস, দেইর আজ জোর ও রাক্কা প্রদেশের মরুভূমি এলাকায় আইএসআইএলের বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলেও স্থল অভিযান হয়নি।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর গঠিত নতুন সিরীয় সরকার এই অভিযানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আইএসআইএলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক জোটকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।
দামেস্ক ও উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় রাতভর যুদ্ধবিমান ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অন্তত ৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে আইএসআইএলের অস্ত্র ও লজিস্টিক সুবিধা ছিল।
গত সপ্তাহান্তে পালমিরায় একটি বহরে হামলার ঘটনায় দুই মার্কিন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য ও এক বেসামরিক দোভাষী নিহত হন। ওই হামলার দায় আইএসআইএলের ওপর চাপিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছিল। বর্তমানে সিরিয়ায় প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে আইএসআইএলের অবশিষ্ট শক্তির বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা নতুন সিরীয় সরকারের ওপরও চাপ বাড়াবে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্র, কুর্দি-নেতৃত্বাধীন বাহিনী ও জর্ডানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আইএসআইএলের হুমকি পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া যখন পুনর্গঠনের পথে এগোতে চাইছে, তখন এই অভিযান দেশটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা বাস্তবতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।















