সহিংসতা ও বিচারহীনতায় গভীর উদ্বেগ, ছয় দফা সুপারিশ মানবাধিকার সংগঠনটির
দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সহিংসতা, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কথা তুলে ধরে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার।
দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক সহিংসতা, হত্যা ও সংবাদমাধ্যমে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন অধিকার। সংগঠনটি বলেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই ভয়াবহ অবনতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দেশের নাগরিক নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। সরকারকে অবশ্যই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে হবে।
শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে অধিকার উল্লেখ করে, ১২ ডিসেম্বর গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মারা যান ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সংগঠক শরিফ ওসমান বিন হাদি। তাঁর মৃত্যুর পরপরই দেশজুড়ে সহিংস পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১৮ ডিসেম্বর রাতে দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। একই রাতে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের কার্যালয়েও হামলা হয় এবং পরদিন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় ডেইলি স্টার ভবনের ছাদে ৩০ থেকে ৩৫ জন সাংবাদিক আটকা পড়েন, যাদের পরে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করে। হামলার সময় সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর-কেও হেনস্তার শিকার হতে হয়।
অধিকার আরও জানায়, ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ‘ধর্ম নিয়ে কটূক্তির’ অভিযোগ তুলে কারখানার শ্রমিক দীপুচন্দ্র দাস-কে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া ১৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা-র মাগুরার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
মানবাধিকার সংগঠনটি মনে করে, এসব সহিংস ঘটনা বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল করার সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টার অংশ। তাদের মতে, গোয়েন্দা নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সময়োচিত পদক্ষেপের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
অধিকার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছে, জনগণের জানমাল রক্ষা এবং সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তায়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তারা ছয়টি সুপারিশ তুলে ধরেছে।
সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনা এবং ভারতে পালিয়ে থাকা অভিযুক্তদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ; দীপুচন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার; সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যম ও ভিন্নমতাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সব প্রার্থী ও হুমকিপ্রাপ্ত জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দেওয়া; গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করা।















