রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মো. শরীফ নামে এক মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যকে নিজেদের হেফাজতে নিতে আদালতে আবেদন জানিয়েছে ডিজিএফআই সদরদপ্তর। সেনা আইন অনুযায়ী গঠিত তদন্ত আদালতে তাদের বিচার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এ আবেদন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
ডিজিএফআই সদর দপ্তর থেকে গত সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো এক দাপ্তরিক চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়। সংস্থাটির মহাপরিচালকের পক্ষে লে. কর্নেল মো. শরীফ উল্যাহ এই আবেদন করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত সোমবার ডিজিএফআইয়ের পক্ষ থেকে মোহাম্মদপুর থানার মামলার (নম্বর ৭৯, তারিখ: ১০/১০/২০২৬) দুই আসামি সার্জেন্ট আল মামুন ও ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামানকে সেনা হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
ডিজিএফআইয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদপুর থানার মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে সার্জেন্ট আল মামুন ও সৈনিক নুরুজ্জামান সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং বর্তমানে ডিজিএফআইয়ে কর্মরত। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ‘তদন্ত আদালত’ (কোর্ট অব ইনকোয়ারি) গঠন করে সেনা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন।
এমতাবস্থায়, অভিযুক্ত দুই সেনা সদস্যকে ডিজিএফআইয়ের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তরের জন্য আদালতকে আশ্বস্ত করে বলা হয়, সেনা আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে এ বিষয়ে অগ্রগতি ও ফলাফল সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করা হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং সেনা আইন অনুযায়ী কোনো কর্মরত সামরিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলে সামরিক কর্তৃপক্ষ তদন্ত বা কোর্ট মার্শালের স্বার্থে আসামিদের নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করতে পারেন। এটি আইনের নির্ধারিত একটি প্রক্রিয়া।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে নিশ্চিত করতে চায়—অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং ভুক্তভোগী যেন পূর্ণ ন্যায়বিচার পান।























