লন্ডন, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ – ড্রোনের চোখে ধরা পড়ছে আর্কটিক মহাসাগরে ঘুরে বেড়ানো তিমিদের স্বাস্থ্যগত রহস্য। বিজ্ঞানীরা হাম্পব্যাক, ফিন এবং স্পার্ম তিমিদের নিশ্বাসের সঙ্গে ভেসে আসা ক্ষুদ্র কণাগুলো বা “ব্লো” সংগ্রহ করতে বিশেষ ড্রোন ব্যবহার করেছেন। এই কণাগুলো বিশ্লেষণ করে তারা একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন, যা বিশ্বজুড়ে তিমি ও ডলফিনদের ব্যাপক মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত।
কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক টেরি ডসন বলেন, তিমিদের “ব্লো” সংগ্রহ করা স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিপ্লবী পরিবর্তন। এটি জীবন্ত তিমিদের উপর কোনো চাপ বা ক্ষতি না ঘটিয়ে রোগ নির্ণয় সম্ভব করে, যা দ্রুত পরিবর্তনশীল আর্কটিক পরিবেশে রোগের গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞানীরা নৌকা থেকে তিমিদের ত্বকের বায়োপসি সংগ্রহের সঙ্গে ড্রোনে সযত্নে স্থির পেট্রি ডিস রাখার মাধ্যমে নিশ্বাসের ছোট ছোট কণাগুলো সংগ্রহ করেছেন। এই পদ্ধতি প্রমাণ করেছে যে, সিটাসিয়ান মর্বিলিভাইরাস নামের সম্ভাব্য প্রাণঘাতী ভাইরাস আর্কটিক সার্কেলের উপরে সঞ্চারিত হচ্ছে।
এই রোগ অত্যন্ত সংক্রামক এবং তিমি, ডলফিন ও পোরপাইজের মধ্যে দ্রুত ছড়ায়, যা মারাত্মক অসুস্থতা এবং বৃহৎ মৃত্যুর কারণ হতে পারে। ভাইরাসটি প্রজাতি-পারস্পরিক স্থানান্তর করতে পারে এবং মহাসাগর পার হতে পারে, ফলে সমুদ্রসীমার প্রাণীদের জন্য একটি গুরুতর হুমকি তৈরি হচ্ছে।
নরওয়ের নর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হেলেনা কোস্টা বলেন, আগামী দিনে এই পদ্ধতিকে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা প্রয়োজন, যাতে বোঝা যায় বিভিন্ন উদীয়মান চাপ কীভাবে তিমিদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে।
কিংস কলেজ লন্ডন, দ্য রয়্যাল (ডিক) স্কুল অফ ভেটেরিনারি স্টাডিজ, এবং নর্ড বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল বিএমসি ভেটেরিনারি রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের সমুদ্রজীবনের উপর ঝুঁকি ও হুমকিগুলি সময়মতো শনাক্ত করার নতুন সুযোগ দিচ্ছে, যা সমুদ্রপ্রাণীর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।















