সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ মানবাধিকার আইনজীবীর
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড এবং এর পরপরই দেশে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা বাংলাদেশের রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক ভয়াবহ মোড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশি মানবাধিকার আইনজীবী তাকবির হুদা।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাকবির হুদা বলেন, বাংলাদেশে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে রাজনৈতিক সহিংসতা অত্যন্ত বিরল। সেই প্রেক্ষাপটে হাদিকে গুলি করে হত্যা করা নজিরবিহীন এবং এটি দেশের রাজনীতিতে একটি ‘ভীতিকর টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, হাদির মৃত্যুর পর যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা আরও বেশি উদ্বেগজনক। এক রাতের মধ্যেই দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও প্রভাবশালী কয়েকটি সংবাদপত্রের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। এ ধরনের হামলা একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।
তাকবির হুদার মতে, ঘটনার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য ও হুমকি ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেগুলো নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এখনো নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ওপর পূর্ণ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন মহল থেকে বক্তব্য ও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাস্তব অগ্রগতি খুবই সীমিত। এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এ পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যর্থতার কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা থাকতে পারে না।”
মানবাধিকার এই আইনজীবী জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো কেবল এক রাতের সহিংসতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পুরো বছরজুড়েই দেশের বিভিন্ন এলাকায় গণহিংসার ঘটনা ঘটেছে, যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামো, শাসনব্যবস্থা এবং আইনের শাসন নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।














