সচেতন না হলে নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ
পানি কম খাওয়া, অতিরিক্ত লবণ, পেইনকিলারের অপব্যবহারসহ কিডনি নষ্টের ৫টি ভয়ংকর অভ্যাস সম্পর্কে জানুন। সময়মতো সচেতন না হলে বাড়তে পারে মারাত্মক ঝুঁকি।
কিডনি মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। রক্ত পরিশোধন, শরীর থেকে বর্জ্য ও টক্সিন বের করে দেওয়া এবং পানি–লবণের ভারসাম্য বজায় রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে কিডনি। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের কিছু ভুল অভ্যাস ধীরে ধীরে কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে—অনেক সময় তা টেরও পাওয়া যায় না। চিকিৎসকদের মতে, এসব অভ্যাস দীর্ঘদিন চলতে থাকলে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
কিডনি নষ্টের ৫টি ভয়ংকর অভ্যাস
১. পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া
শরীরে পানির ঘাটতি হলে টক্সিন ঠিকভাবে বের হতে পারে না। এতে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ধীরে ধীরে কিডনি ড্যামেজ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
২. অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ
ঝাল ও লবণযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড বা প্রসেসড খাবার বেশি খেলে রক্তচাপ বাড়ে। উচ্চ রক্তচাপ কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
৩. ব্যথানাশক ওষুধের অপব্যবহার
মাথাব্যথা বা শরীর ব্যথায় নিয়মিত ও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পেইনকিলার সেবন কিডনির ক্ষুদ্র রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক হতে পারে।
৪. পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব
নিয়মিত কম ঘুম বা অনিদ্রা শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। এর প্রভাব পড়ে কিডনির স্বাভাবিক কার্যকারিতার ওপর।
৫. প্রস্রাব চেপে রাখা
দীর্ঘসময় প্রস্রাব আটকে রাখলে মূত্রথলিতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। সেই সংক্রমণ ধীরে ধীরে কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
নেফ্রোলজিস্টদের মতে, কিডনি সুস্থ রাখতে হলে নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান, লবণ ও অপ্রয়োজনীয় ওষুধ কমানো, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সময়মতো প্রস্রাবের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা কিডনি রোগ আগেভাগে শনাক্তে সহায়ক।
কিডনি একবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পুরোপুরি সুস্থ করা কঠিন। তাই ভবিষ্যতের ঝুঁকি এড়াতে আজ থেকেই অভ্যাস বদলানোই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
















