যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রতি কড়া রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে প্রযুক্তি জায়ান্ট এনভিডিয়াকে তাদের উন্নত H200 চিপ চীনে বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন। এ সিদ্ধান্তকে মার্কিন নীতির বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার ট্রাম্প জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে তিনি এ অনুমতির বিষয়টি জানিয়েছেন। নতুন ব্যবস্থায় এনভিডিয়ার মোট বিক্রির ২৫ শতাংশ অর্থ যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে দিতে হবে। রপ্তানি কেবল “অনুমোদিত গ্রাহকদের” কাছেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার শর্ত বজায় থাকবে। এ একই নীতি AMD ও Intel-এর মতো অন্যান্য চিপ নির্মাতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প দাবি করেন, এ নীতি মার্কিন কর্মসংস্থান, দেশীয় উৎপাদন এবং করদাতাদের জন্য লাভজনক হবে। এনভিডিয়া এক বিবৃতিতে জানায়, সিদ্ধান্তটি “সন্তুলিত” এবং যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান ও উৎপাদনকে সমর্থন করবে। ঘোষণার পর এনভিডিয়ার শেয়ারমূল্য বাজার-পরবর্তী লেনদেনে ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়।
বাইডেন প্রশাসনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতির উল্টো পথে
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত পূর্ববর্তী বাইডেন প্রশাসনের কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বড় ধরনের পরিবর্তন। বাইডেন সরকার এনভিডিয়া ও অন্যান্য নির্মাতাকে শুধুমাত্র চীনের জন্য বিশেষভাবে দুর্বল সংস্করণ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। ট্রাম্প দাবি করেন, সে নীতি কোম্পানিগুলোকে “অপ্রয়োজনীয়” চিপ তৈরি করতে বাধ্য করেছে।
২০২৩ সালে উন্মোচন হওয়া H200 চিপ এনভিডিয়ার সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চিপগুলোর একটি—যদিও নতুন প্রজন্মের ব্ল্যাকওয়েল সিরিজ চীনবাজারে নিষিদ্ধই থাকছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর প্রোগ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, H200 চিপ পূর্ববর্তী H20 চিপের তুলনায় প্রায় ছয়গুণ শক্তিশালী।
আগস্টে এনভিডিয়া ঘোষণা দেয়, চীনের জন্য তৈরি কম ক্ষমতার H20 চিপ বিক্রির বিপরীতে তারা মার্কিন সরকারকে ১৫ শতাংশ রাজস্ব দেবে।
চীনের সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় নতুন বাস্তবতা
চীনা প্রযুক্তি বিশ্লেষক টিলি ঝ্যাং বলেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বাজার বাস্তবতা এবং এনভিডিয়া সিইও জেনসেন হুয়াং-এর তীব্র লবিং—উভয়কেই প্রতিফলিত করে। চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আটকে দেওয়ার চেয়ে বাজার প্রতিযোগিতা ও বাণিজ্যিক মুনাফা এখন যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার বলে তিনি মনে করেন।
ঝ্যাং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র–চীন এআই প্রতিযোগিতা এখন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ থেকে বাজারকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতায় রূপ নিচ্ছে, যা দুই দেশের চিপ নির্মাতাদের দ্রুত উদ্ভাবনে ত্বরান্বিত করতে পারে।
ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের কঠোর প্রতিক্রিয়া উস্কে দিয়েছে। মার্কিন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন অভিযোগ করেন, ট্রাম্প “মার্কিন নিরাপত্তাকে বিক্রি করে দিচ্ছেন”, কারণ বিচার বিভাগ দেখিয়েছে, এসব উন্নত চিপ অবৈধভাবে চীনে পাচার হয়ে আসছে।
প্রযুক্তি নীতির বিশেষজ্ঞ ক্রিস ম্যাকগুয়ের মতে, এ নীতি যুক্তরাষ্ট্রের এআই প্রাধান্য রক্ষার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করবে এবং চীনা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত ব্যবধান কমানোর সুযোগ দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী এআই প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় পরিণত হতে পারে।
















