ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টাকে “গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত” হিসেবে আখ্যা দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর আরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে। লন্ডনে বৈঠকের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ তথ্য জানান।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, তিনি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউক্রেনের প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনার খসড়া তুলে ধরবেন। ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয়ই গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ২৮ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের অবস্থান সাজাচ্ছে।
লন্ডনে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর জেলেনস্কি বলেন, “আমেরিকানদের মনোভাব মূলত সমঝোতার দিকে। তবে ভূখণ্ডসংক্রান্ত জটিল বিষয় রয়েছে, যেখানে এখনো সমাধান পাওয়া যায়নি।”
লন্ডন বৈঠকের পর ফিনল্যান্ড, ইতালি, পোল্যান্ড, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, সুইডেন ও তুরকিয়ে—এসব দেশের নেতারাও আলোচনায় যোগ দিয়ে ইউক্রেনকে সমর্থনের বার্তা দেন।
জেলেনস্কি পরে ব্রাসেলস গিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে বৈঠক করতে রোমে যান।
এদিকে, রাশিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল মূলত রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নতুন নীতিতে ইউরোপীয় নেতৃত্বের সমালোচনা, ন্যাটো সম্প্রসারণ নিয়ে সংশয়, ইউরোপের চরম ডান দলগুলোর প্রতি সমর্থন এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার ইঙ্গিত রয়েছে। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, নথির পরিবর্তনগুলো “অনেক ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থানের সঙ্গে মিলে গেছে।”
এসব কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও রুশ বাহিনী ইউক্রেনজুড়ে হামলা অব্যাহত রেখেছে। রবিবার থেকে দোনেৎস্কে কমপক্ষে চারজন এবং খারকিভে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের সেনারা জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের নোভোদানিলিভকা এবং দোনেৎস্কের চেরভনে গ্রাম দখল করেছে।
ইউক্রেনীয় পর্যবেক্ষণ সাইট ডিপস্টেট জানিয়েছে, রুশ বাহিনী দোনেৎস্কের পোকরোভস্ক শহরের কাছে আরও অগ্রগতি করেছে এবং লিসিভকা, সুফখি ইয়ার, হনাতিভকা, রিহ, নোভোপাভলিভকা দখলের পাশাপাশি সিভেরস্ক ও মিরনোহ্রাদ এলাকায়ও অগ্রসর হয়েছে।
















