Dhaka ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ইউরোপীয় ইউনিয়নে পোশাক পাঠাতে হোঁচট, জার্মানিকে পেছনে ফেলে শীর্ষে স্পেনের বাজার

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিশাল বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি বাণিজ্যকে ঘিরে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সময়কালে বাংলাদেশ হতে তৈরি পোশাক কেনার বিপরীতে ইইউভুক্ত দেশগুলোর সার্বিক খরচ বিগত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

তবে সার্বিক পোশাক খাতের চলতি ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে) ইইউর বাণিজ্যিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন শীর্ষস্থানে থাকা জার্মানিকে স্থানচ্যুত করে ইইউভুক্ত অঞ্চলের ভেতর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্যের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে স্পেন।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর গবেষণা ও উন্নয়ন উইং থেকে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই সম্পর্কিত সকল উপাত্ত নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইউরোপীয় পরিসংখ্যান দপ্তর ‘ইউরোস্ট্যাট’-এর সূচক অনুসারে, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশ থেকে পোশাক সামগ্রী কেনাকাটায় ইইউ মোট ১ হাজার ৩৭ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার ইউরো ব্যয় করেছে। যা ঠিক আগের ২০২৫ সালের একই সময়সীমার ১ হাজার ২০১ কোটি ২১ লাখ ৭০ হাজার ইউরোর অর্থমূল্যের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কম।

অপরদিকে বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি)-এর দেওয়া প্রাথমিক তথ্যে দেখা যায়, চলতি নতুন অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ইইউ ব্লকে বাংলাদেশ সর্বমোট ৪৯০ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক বিক্রয় করেছে। বিগত অর্থবছরের একই সময়ে যার আর্থিক পরিমাণ ছিল ৪৭৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার। ফলে বছর ঘুরতেই ওই অঞ্চলে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার ডলার বা ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

প্রকাশিত উপাত্ত দুটির মূল সময়কাল ও মুদ্রা পরিমাপের একক একেবারেই ভিন্ন—প্রথমটি সাত মাসের আমদানি মান ইউরো মুদ্রায় এবং দ্বিতীয়টি প্রথম প্রান্তিকের রপ্তানি মান ডলার মুদ্রায় প্রস্তুত করা। ফলে তথ্য দুটিকে সরাসরি একটির সাথে অপরটির সমান্তরাল তুলনা হিসেবে বিচার করার সুযোগ নেই।

রপ্তানির ক্ষেত্রে জার্মানিকে পেছনে ফেলে স্পেনের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করলে দেখা যায়, চলমান অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে স্পেনে বাংলাদেশ ১১৪ কোটি ৮৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার সমমূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে। একই সময়সীমায় জার্মানিতে প্রেরিত পোশাকের আর্থিক মূল্য ছিল ১১২ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার। ফলশ্রুতিতে ইইউর সদস্য দেশগুলোর তালিকা থেকে জার্মানিকে পেছনে ঠেলে দিয়ে স্পেন বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

বিগত অর্থবছরের একই সময়ে অবশ্য জার্মানিই ছিল বাংলাদেশের শীর্ষ পোশাক ক্রেতা; তখন সেই দেশে ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের পোশাক পাঠানো হয়েছিল এবং একই সময়ে স্পেনে চালান হয়েছিল ১০০ কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার ডলারের পণ্য। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চালান ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ বা ১৩ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরপক্ষে ঐতিহ্যবাহী জার্মানির বাজারে চালান কমেছে শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ। ইইউর সার্বিক বাজারে বাংলাদেশের অর্জিত পোশাক প্রবৃদ্ধির প্রায় ৮৮ শতাংশের জোগান একাই দিয়েছে স্পেন।

স্পেন ছাড়া ইউরোপের অন্যান্য রাষ্ট্র যেমন নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডের বাজারেও দেশীয় তৈরি পোশাকের বিক্রি বেশ ইতিবাচক গতি লাভ করেছে। প্রথম প্রান্তিকে নেদারল্যান্ডসের বাজারে পণ্য বিক্রি ৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং পোল্যান্ডের বাজারে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে একক সেপ্টেম্বর মাসে পোল্যান্ডে পণ্য রপ্তানির প্রবৃদ্ধি গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে বেড়েছে, যা প্রধান পাঁচটি দেশের মাসিক বাণিজ্যিক হারের দিক থেকে সর্বোচ্চ।

তবে ইউরোপের সর্বত্র এমন ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যায়নি। প্রথম প্রান্তিকের হিসেবে ফ্রান্সে বাংলাদেশের পোশাক চালান কমেছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং অন্যান্য সব ইইউভুক্ত দেশ মিলিয়ে সার্বিক চালানের হার কমেছে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বিকেএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়সীমার ভেতরে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের তৈরি নিট পোশাকের সামগ্রিক আমদানি মান দাঁড়িয়েছে ৬০৯ কোটি ৮৩ লাখ ৯০ হাজার ইউরো, যা আগের বছরের একই মেয়াদে ছিল ৭৭১ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার ইউরো। অর্থাৎ নিট পোশাকের রপ্তানি কমার এই প্রবণতা সাধারণ পোশাকের মোট পতনের চেয়েও বেশি। তবে কেবল একক জুলাই মাসে এর বিপরীতে ইতিবাচক বাজার দেখা গেছে এবং ওই মাসে নিট পণ্যের আমদানি মান প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

বিকেএমইএর বিশদ বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয় যে, ইউরোপের বাজারে তৈরি পোশাকের বিক্রি মন্দা হওয়ার মূল কারণ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আর্থিক মন্দা, সাধারণ ক্রেতাদের কেনাকাটার সামর্থ্য ও চাহিদা কমে যাওয়া, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং বিশ্ব বাজারে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সক্ষমতার ক্রমবিকাশ। ফলে বিদ্যমান সংকটে ইউরোপীয় অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি অক্ষুণ্ণ রাখা এবং নিট পোশাকে দেখা দেওয়া পতন সামাল দেওয়াই এখন পোশাক শিল্পমালিকদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ইউরোপীয় ইউনিয়নে পোশাক পাঠাতে হোঁচট, জার্মানিকে পেছনে ফেলে শীর্ষে স্পেনের বাজার

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিশাল বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি বাণিজ্যকে ঘিরে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সময়কালে বাংলাদেশ হতে তৈরি পোশাক কেনার বিপরীতে ইইউভুক্ত দেশগুলোর সার্বিক খরচ বিগত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

তবে সার্বিক পোশাক খাতের চলতি ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে) ইইউর বাণিজ্যিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন শীর্ষস্থানে থাকা জার্মানিকে স্থানচ্যুত করে ইইউভুক্ত অঞ্চলের ভেতর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্যের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে স্পেন।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর গবেষণা ও উন্নয়ন উইং থেকে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই সম্পর্কিত সকল উপাত্ত নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইউরোপীয় পরিসংখ্যান দপ্তর ‘ইউরোস্ট্যাট’-এর সূচক অনুসারে, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশ থেকে পোশাক সামগ্রী কেনাকাটায় ইইউ মোট ১ হাজার ৩৭ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার ইউরো ব্যয় করেছে। যা ঠিক আগের ২০২৫ সালের একই সময়সীমার ১ হাজার ২০১ কোটি ২১ লাখ ৭০ হাজার ইউরোর অর্থমূল্যের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কম।

অপরদিকে বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি)-এর দেওয়া প্রাথমিক তথ্যে দেখা যায়, চলতি নতুন অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ইইউ ব্লকে বাংলাদেশ সর্বমোট ৪৯০ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক বিক্রয় করেছে। বিগত অর্থবছরের একই সময়ে যার আর্থিক পরিমাণ ছিল ৪৭৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার। ফলে বছর ঘুরতেই ওই অঞ্চলে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার ডলার বা ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

প্রকাশিত উপাত্ত দুটির মূল সময়কাল ও মুদ্রা পরিমাপের একক একেবারেই ভিন্ন—প্রথমটি সাত মাসের আমদানি মান ইউরো মুদ্রায় এবং দ্বিতীয়টি প্রথম প্রান্তিকের রপ্তানি মান ডলার মুদ্রায় প্রস্তুত করা। ফলে তথ্য দুটিকে সরাসরি একটির সাথে অপরটির সমান্তরাল তুলনা হিসেবে বিচার করার সুযোগ নেই।

রপ্তানির ক্ষেত্রে জার্মানিকে পেছনে ফেলে স্পেনের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করলে দেখা যায়, চলমান অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে স্পেনে বাংলাদেশ ১১৪ কোটি ৮৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার সমমূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে। একই সময়সীমায় জার্মানিতে প্রেরিত পোশাকের আর্থিক মূল্য ছিল ১১২ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার। ফলশ্রুতিতে ইইউর সদস্য দেশগুলোর তালিকা থেকে জার্মানিকে পেছনে ঠেলে দিয়ে স্পেন বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

বিগত অর্থবছরের একই সময়ে অবশ্য জার্মানিই ছিল বাংলাদেশের শীর্ষ পোশাক ক্রেতা; তখন সেই দেশে ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের পোশাক পাঠানো হয়েছিল এবং একই সময়ে স্পেনে চালান হয়েছিল ১০০ কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার ডলারের পণ্য। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চালান ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ বা ১৩ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরপক্ষে ঐতিহ্যবাহী জার্মানির বাজারে চালান কমেছে শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ। ইইউর সার্বিক বাজারে বাংলাদেশের অর্জিত পোশাক প্রবৃদ্ধির প্রায় ৮৮ শতাংশের জোগান একাই দিয়েছে স্পেন।

স্পেন ছাড়া ইউরোপের অন্যান্য রাষ্ট্র যেমন নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডের বাজারেও দেশীয় তৈরি পোশাকের বিক্রি বেশ ইতিবাচক গতি লাভ করেছে। প্রথম প্রান্তিকে নেদারল্যান্ডসের বাজারে পণ্য বিক্রি ৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং পোল্যান্ডের বাজারে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে একক সেপ্টেম্বর মাসে পোল্যান্ডে পণ্য রপ্তানির প্রবৃদ্ধি গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে বেড়েছে, যা প্রধান পাঁচটি দেশের মাসিক বাণিজ্যিক হারের দিক থেকে সর্বোচ্চ।

তবে ইউরোপের সর্বত্র এমন ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যায়নি। প্রথম প্রান্তিকের হিসেবে ফ্রান্সে বাংলাদেশের পোশাক চালান কমেছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং অন্যান্য সব ইইউভুক্ত দেশ মিলিয়ে সার্বিক চালানের হার কমেছে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বিকেএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়সীমার ভেতরে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের তৈরি নিট পোশাকের সামগ্রিক আমদানি মান দাঁড়িয়েছে ৬০৯ কোটি ৮৩ লাখ ৯০ হাজার ইউরো, যা আগের বছরের একই মেয়াদে ছিল ৭৭১ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার ইউরো। অর্থাৎ নিট পোশাকের রপ্তানি কমার এই প্রবণতা সাধারণ পোশাকের মোট পতনের চেয়েও বেশি। তবে কেবল একক জুলাই মাসে এর বিপরীতে ইতিবাচক বাজার দেখা গেছে এবং ওই মাসে নিট পণ্যের আমদানি মান প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

বিকেএমইএর বিশদ বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয় যে, ইউরোপের বাজারে তৈরি পোশাকের বিক্রি মন্দা হওয়ার মূল কারণ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আর্থিক মন্দা, সাধারণ ক্রেতাদের কেনাকাটার সামর্থ্য ও চাহিদা কমে যাওয়া, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং বিশ্ব বাজারে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সক্ষমতার ক্রমবিকাশ। ফলে বিদ্যমান সংকটে ইউরোপীয় অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি অক্ষুণ্ণ রাখা এবং নিট পোশাকে দেখা দেওয়া পতন সামাল দেওয়াই এখন পোশাক শিল্পমালিকদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।