লেবানন ও ইসরায়েল—দুই প্রতিবেশী, দুই দীর্ঘশ্বাসে ভরা ইতিহাস। ২০২৪ সালের নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো তারা সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনার পথে হাঁটতে চলেছে। এই পদক্ষেপ যেন বহু দশকের শীতলতা ভেদ করে ভেসে আসা এক অনিচ্ছুক কিন্তু প্রয়োজনীয় বাতাসের ঝাপটা।
বুধবার লেবানন জানিয়েছে, এ আলোচনায় তারা এবার প্রথমবারের মতো এক বেসামরিক প্রতিনিধিকে পাঠাচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আহ্বানে সাড়া দিয়েই এই সিদ্ধান্ত। জানা গেছে, সাবেক মার্কিন দূত সাইমন কারামকে পাঠানো হচ্ছে আলোচনার টেবিলে। অপরদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও একজন কূটনীতিককে দলে যুক্ত করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক গিল রাইখ প্রতিনিধি মনোনয়নের দায়িত্ব পেয়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আরুজ শেভা জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিনিধি হবেন ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উরি রেসনিক।
এই বৈঠক হবে জাতিসংঘ-চিহ্নিত ব্লু লাইনের কাছাকাছি, যেখানে দুই দেশের অনানুষ্ঠানিক সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনার রেখা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও বৈঠকের সময় ও স্থান নিয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি, তবুও এ উদ্যোগকে সম্ভাব্যভাবে আলোচনার পরিসর বিস্তৃত করার এক নীরব ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি “সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি ভিত্তি গড়ে তুলতে প্রাথমিক চেষ্টা”।
বৈরুত থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, লেবাননে এ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত স্পর্শকাতর—অনেকে এখনো ইসরায়েলকে শত্রু হিসেবেই দেখে। ফলে বেসামরিক প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত দেশটির রাজনীতিতে বেশ বিতর্ক তৈরি করেছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলের হামলা থামেনি। জাতিসংঘের হিসাব বলছে, এ সময়ে লেবাননে তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে কমপক্ষে ১২৭ জন ছিলেন বেসামরিক। ইসরায়েল দাবি করে, তারা হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডার ও সদস্যদের লক্ষ্য করছে, যাতে গোষ্ঠীটি নিজেদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করতে না পারে।
এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছে—বছরের শেষ নাগাদ হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে, এমন দাবি জানানো হচ্ছে লেবাননের প্রতি। কিন্তু হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম বলছেন, ইসরায়েলি “আগ্রাসন” শেষ না হলে কোনো নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নই ওঠে না।
সবকিছুর মাঝে এই আলোচনার আহ্বান যেন ভাঙা সম্পর্কের ওপর ধুলোমাখা জানালা খুলে দেওয়ার মতো—যেখানে সামান্য আলোর রেখাও নতুন সম্ভাবনার কথা মনে করিয়ে দেয়। যুদ্ধের ক্ষত গভীর হলেও, আলোচনার পথেই হয়তো একদিন শান্তির দীর্ঘশ্বাস একটু হালকা হবে।
















